Advertisement

Indian Railway Station Names: হাওড়া 'জংশন',মুম্বইয়ে'টার্মিনাল', দিল্লিতে 'ক্যান্ট', স্টেশনের নামে এই নিয়ম কেন?

Railway Terms: আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন রেল স্টেশনগুলোকে জংশন (Junction), টার্মিনাল (Terminal) বা ক্যান্টনমেন্ট ( Cantt) কেন বলা হয়? প্রতিটি প্রধান স্টেশনই কি জাংশন? সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের কী সম্পর্ক? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ক্যান্টনমেন্ট, জংশন ও টার্মিনাসের মতো নামের আসল অর্থ কী?ক্যান্টনমেন্ট, জংশন ও টার্মিনাসের মতো নামের আসল অর্থ কী?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 23 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:55 AM IST

ভারতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। টিকিট বুক করার সময় বা স্টেশন বোর্ডের দিকে তাকানোর সময়, আপনি সম্ভবত হাওড়া, শিয়ালদহ, নিউ দিল্লি, মথুরা জংশন, আনন্দ বিহার টার্মিনাল বা দিল্লি ক্যান্ট-এর মতো নাম দেখেছেন। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেন একটি স্টেশনের নামের পরে 'জংশন','টার্মিনাল', বা 'ক্যান্ট' লেখা থাকে? এটা কি শুধু নামেরই একটি অংশ, নাকি এর পিছনে রেলওয়ের কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে? আসলে, এই তিনটি শব্দ একটি স্টেশনের পরিচয় নির্ধারণ করে। তাহলে চলুন, এদের অর্থ এবং পার্থক্যগুলো জেনে নেওয়া যাক।

টার্মিনাল বলতে কী বোঝায়?
যদি কোনও রেল স্টেশনের নামের সঙ্গে 'টার্মিনাল' শব্দটি যুক্ত থাকে, তার মানে হলো রেললাইনটি সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। এর মানে হলো, ট্রেনগুলো সেই স্টেশনের পর আর একই ট্র্যাকে চলতে পারে না। সেগুলোকে হয় বিপরীত দিকে ফিরে যেতে হয়, অথবা অন্য কোনও লাইনে চলতে হয়। এটিকে রাস্তার শেষ প্রান্তের মতো করে ভাবুন। সেখানে একবার পৌঁছালে, আপনাকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। রেলওয়ের টার্মিনাল স্টেশনগুলোও একই ধরনের উদ্দেশ্য পূরণ করে। দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল, মুম্বইয়ের লোকমান্য তিলক টার্মিনাস এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস এর ভালো উদাহরণ। অনেক দূরপাল্লার ট্রেন এই স্টেশনগুলো থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অনেক ট্রেন এখানেই শেষ হয়।

জংশন বলতে কী বোঝায়?
এবার জংশন নিয়ে কথা বলা যাক। জংশন হলো এমন একটি স্টেশন যেখানে রেললাইনগুলো অন্তত তিনটি ভিন্ন দিকে বিভক্ত হয়ে যায়। এর মানে হলো, সেখানে পৌঁছনোর পর ট্রেনগুলো বিভিন্ন পথ ধরতে পারে। ধরুন, আপনি এমন একটি চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন যেখান থেকে চারটি রাস্তা বিভিন্ন শহরের দিকে চলে গেছে। রেলপথে, এই ধরনের চৌরাস্তাকেই জংশন বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মথুরা জংশন  দিল্লি, আগ্রা, কোটা, আলিগড় এবং আরও অনেক রুটের সঙ্গে সংযুক্ত। একইভাবে, প্রয়াগরাজ জংশন এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এই কারণেই জংশনগুলোকে রেল নেটওয়ার্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Advertisement

প্রতিটি বড় স্টেশনই কি জংশন?
অনেকেই মনে করেন, যে স্টেশনে সবচেয়ে বেশি ট্রেন আসা-যাওয়া করে, সেটিই জংশন। কিন্তু ব্যাপারটা তেমন নয়। একটি স্টেশনকে জংশন বলার জন্য সেটিকে বড় হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে সেখান থেকে অন্তত তিনটি দিকে রেললাইনের শাখা-প্রশাখা বের হওয়া প্রয়োজন। এই কারণেই দেশের অন্যতম ব্যস্ততম স্টেশন নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের নামে 'জংশন' শব্দটি নেই, অথচ কিছু ছোট শহরের স্টেশনগুলোকে জংশন বলা হয়, কারণ সেখানে একাধিক রেললাইন এসে মিলিত হয়।

স্টেশনের নামের আগে 'Cantt' কেন লেখা হয়?
আপনি যদি দিল্লি ক্যান্ট, মিরাট ক্যান্ট, আম্বালা ক্যান্ট বা ঝাঁসি ক্যান্টের মতো স্টেশন দেখে থাকেন, তবে জেনে রাখুন যে এখানকার 'ক্যান্ট' বলতে সেনানিবাস বোঝায়। ব্রিটিশ শাসন কালে দেশের বিভিন্ন অংশে সামরিক সেনানিবাস স্থাপন করা হয়েছিল। সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জামের চলাচল সহজ করার জন্য এই এলাকাগুলোর কাছে রেল স্টেশনও তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনের নামের সাথে 'ক্যান্ট' (Cantt.) যুক্ত হয় এবং আজও সেই একই নাম ব্যবহৃত হয়। তবে, এই স্টেশনগুলো শুধু সামরিক যাত্রার জন্য নয়। সাধারণ যাত্রীদের জন্যও সমস্ত ট্রেন পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে।

রেলস্টেশনের নামের সঙ্গে এই শব্দগুলো কেন যোগ করা হয়?
রেল কর্তৃপক্ষ শুধু নামকরণের খাতিরেই এই শব্দগুলো যোগ করে না। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো স্টেশনটিকে শনাক্ত করা। কোনও যাত্রী সাইনবোর্ডে ‘জাশন’, ‘টার্মিনাল’ বা ‘ক্যান্টনমেন্ট’ দেখামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যান যে এটি কী ধরনের স্টেশন। এতে রেল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সহজ হয় এবং যাত্রীরাও স্টেশনটি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য পেয়ে যান।

Read more!
Advertisement
Advertisement