
ভারতে পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহনের দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন। রেল মন্ত্রকের অনুমোদনক্রমে এই ট্রেনটি নর্দার্ন রেলওয়ের জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে চলাচল করবে। ট্রেনটি ডিজেল বা প্রচলিত বিদ্যুতের বদলে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে চলবে, ফলে এতে প্রায় কোনো দূষণই হবে না বলে দাবি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার।
এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে ডিস্ট্রিবিউটেড পাওয়ার রোলিং স্টক (DPRS) প্রযুক্তি, যার ক্ষমতা প্রায় ১২০০ কিলোওয়াট। এই প্রযুক্তিতে একক ইঞ্জিনের বদলে ট্রেনের বিভিন্ন অংশে শক্তি সরবরাহ করা হয়, ফলে যাত্রা আরও মসৃণ হয় এবং কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
চালুর আগে ট্রেনটি একাধিক স্তরে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO) প্রযুক্তিগত ছাড়পত্র দিয়েছে এবং রেলওয়ে সেফটি কমিশনার নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এরপর রেল মন্ত্রক নর্দার্ন রেলওয়েকে ট্রেনটি পরিচালনার অনুমতি দেয়, তবে চূড়ান্ত গতিসনদ, রক্ষণাবেক্ষণ বিধিমালা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও ট্রেনটি অনুমোদন পেয়েছে, তা এখনই সাধারণ যাত্রীদের জন্য চালু হচ্ছে না। আরও কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন বাকি রয়েছে। জিন্দে ইতিমধ্যে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ট্রেন পরিচালনায় সহায়তা করবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাইড্রোজেন সিস্টেমে লিকেজ বা ফ্লেম ডিটেক্টরের মতো সেন্সর ধুলাবালির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন মাস ট্রেনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন।
বর্তমানে ট্রেনটি শুধু জিন্দ ও সোনিপত রুটে চলবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র থাকবে দিল্লির শাকুর বস্তিতে। রক্ষণাবেক্ষণের সময় নিরাপত্তার জন্য হাইড্রোজেন সিস্টেম বন্ধ রেখে ট্রেনটিকে ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে টেনে নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, এই হাইড্রোজেন ট্রেনকে ভারতের রেল ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ডিজেল নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।