
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট সংঘাত। জ্বলছে ইরান। যুদ্ধে জড়িয়েছে আমেরিকা। যার ফলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এখন থেকে বাণিজ্যিক কারণে পেট্রোল পাম্প থেকে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল এবং ডিজেল কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সরকার। নতুন সরকারি অর্ডার অনুযায়ী, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল, কমার্শিয়াল এবং ইনস্টিটিউশনাল ব্যবহারকারীরা এখন থেকে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল কিনতে পারবেন না। তাদের বাল্ক সেলস পয়েন্ট থেকেই তেল কিনতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, পেট্রোল পাম্প থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি চলবে ৯০ দিন। তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, দেশের কিছু জায়গার পেট্রোল পাম্প থেকে এখন প্রচুর পরিমাণে তেল বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত তেলের দামের তফাতের জন্যই এই এখান থেকে তেল কিনতে চাইছে বড় ব্যবসায়ীরা।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, পেট্রোল পাম্পগুলিতে তেলের দাম মোটের উপর কমই রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এই কাজটা করছে তেল সংস্থাগুলি। অন্যদিকে যাদের প্রচুর পরিমাণে তেল লাগে, তাদের বাজারের দামেই তেল কিনতে হয়। তাই তারা পেট্রোল, ডিজেল কিনছে পেট্রোল পাম্প থেকে বলেই অভিযোগ। এভাবেই টাকা বাঁচাচ্ছে তারা। আর এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশিকে জারি করল সরকার। এখন থেকে টেলিকম টাওয়ার থেকে শুরু করে যে কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে না। তাদের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সঠিক দাম দিয়েই তেল কিনতে হবে।
কেন জরুরি?
এই বিষয়টাও স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার। মটোর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অব সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেট) অর্ডার, ২০২৬ জুন- বলে একটা অর্ডার পেশ করেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। সেখানে জানান হয়েছে, ৯০ দিনের জন্য বাল্কে তেল বিক্রি করা যাবে না পেট্রোল পাম্প থেকে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। তার ফলে বেড়েছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্প থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল কিনলে সমস্যা হতে পারে। শর্টেজ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। এছাড়া পেট্রোল পাম্পে তেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এখানে তেলের দাম কম রাখা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে বড় সংস্থারা তেল কিনলে বিপদ। তাই এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।