
UPI শব্দটি শুনলেই প্রথমে যে বিষয়টি মাথায় আসে, তা হল পেমেন্ট করলেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়া। এবং এর জন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জও লাগে না। এই কারণেই চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় রেস্তোরাঁ, সব জায়গায় মানুষ এখন UPI ব্যবহার করে পেমেন্ট করেন। কিন্তু আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি কিছু UPI মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে MDR প্রযোজ্য হবে। এতে আবারও প্রশ্ন উঠছে, ডিজিটাল পেমেন্টও কি ধীরে ধীরে চার্জেবল হয়ে উঠবে?
এখানে একটি বিষয় বোঝা জরুরি, সব ব্যাঙ্কিং চার্জকেই UPI চার্জ হিসেবে গণ্য করা যায় না। ব্যাঙ্কগুলি বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং লেনদেনের জন্য তাদের নিজস্ব ফি ধার্য করে। যেমন ATM, নগদ টাকা তোলা, চেক, SMS অ্যালার্ট, NEFT, RTGS। এই ফি ব্যাঙ্ক, অ্যাকাউন্ট এবং পরিষেবা ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রথম সেই ১০ ধরনের ব্যাঙ্কিং চার্জগুলি দেখে নেওয়া যায়, গ্রাহকরা বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যবহার করার সময়ে সম্মুখীন হতে পারেন।
ATM বার্ষিক ফি
ব্যাঙ্কের ATM বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলে একটি বার্ষিক ফি লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ফি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়। এর সঙ্গে ১৮ শতাংশ GST প্রযোজ্য হতে পারে। এর অর্থ হল, আপনি কার্ডটি ব্যবহার করুন বা না করুন, এটি আপনার কাছে আছে এবং কিছু অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আপনাকে বার্ষিক ফি দিতেই হবে।
অন্য ব্যাঙ্কের ATM থেকে অতিরিক্ত টাকা তোলা
RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের ATM থেকে প্রতি মাসে ৫টি বিনামূল্যে লেনদেনের সুযোগ পান। দিল্লি-মুম্বই এবং বেঙ্গালুরু-কলকাতার মতো মেট্রো শহরগুলিতে অন্য ব্যাঙ্কের ATM ব্যবহারের সীমা ৩টি। এই সীমা অতিক্রম করার পর প্রতিটি অতিরিক্ত লেনদেনের জন্য প্রায় ২১ থেকে ২৩ টাকা এবং তার সঙ্গে GST চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। যার মধ্যে নগদ টাকা তোলা এবং ব্যালান্স চেক করাও অন্তর্ভূক্ত।
ATM-এর নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি টাকা তোলা
ATM থেকে যদি কোনও গ্রাহক নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি টাকা দিনে কোলেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে ২০-২৫ টাকা ফি ধার্য করা হতে পারে।
ব্যাঙ্ক শাখার তুলনায় বেশি লেনদেন
যদি ঘনঘন কোনও ব্যাঙ্ক শাখায় টাকা জমা দেন বা তোলেন, তাহলে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি লেনদেনের জন্য ফি প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ৪টির বেশি নগদ লেনদেনর জন্য ১৫০ টাকা পর্যন্ত চার্জ লাগতে পারে। তবে এই নিয়মটি ব্যাঙ্ক এবং অ্যাকাউন্টের ধরনের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স না রাখা
অনেক সেভিংস অ্যাকাউন্টে একটি ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় রাখার প্রয়োজন পড়ে। গ্রাহকের ব্যালেন্স সেই সীমার নীচে নেমে গেলে ব্যাঙ্ক একটি ফি ধার্য করতে পারে। HDFC, ICICI এবং Axis ব্যাঙ্কের মতো প্রধান বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি এই ফি ধার্য করে। তবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাদের সেভিংস অ্যাকাউন্টের জন্য এই শর্তটা সম্পূর্ণরূপে মকুব করেছে।
চেক বাউন্স চার্জ
কোনও টেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্টে অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকে, তাহলে ব্যাঙ্ক গ্রাহকের থেকে একটি ফি নিতে পারে।
SMS অ্যালার্ট চার্জ
ব্যাঙ্ক আপনার লেনদেন সম্পর্কে SMS পাঠায়। এই সুবিধার জন্য ত্রৈমাসিক ফি নেয়।
অধিক পেজের চেক বই
চেক বইয়ের পাতা সবসময় বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পাতা নিলে ব্যাঙ্ক প্রতিটির জন্য ফি নিতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ২৫টির বেশি চেক বইয়ের পাতার দন্য প্রতি পাতায় ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত চার্জ করা হয়।
NEFT, RTGS-এর উপর চার্জ
ব্যাঙ্ক থেকে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন উপায় আছে। NEFT, RTGS, IMPS সহ কিছু ধরনের লেনদেনের জন্য ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত ফি লাগানো হতে পারে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার চার্জ
অ্যাকাউন্ট খোলা সাধারণত সহজ কিন্তু কিছু ব্যাঙ্ক তা বন্ধ করার জন্য ফি নিয়ে থাকে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শর্তাবলীর উপর নির্ভর করে এই বন্ধ করার ফি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
UPI-এর এই MDR কী?
নতুন UPI নিয়ম থেকে এই ব্যাঙ্কিং চার্জগুলিকে আলাদা ভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত UPI-তে কোনও MDR ছিল না। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজারের বেশি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট UPI পেমেন্টের উপর ০.৪ শতাংশ MDR প্রযোজ্য হবে। প্রতি লেনদেনর সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার। এটি গ্রাহকের উপর সরাসরি আরোপিত কোনও UPI চার্জ নয়। MDR মার্চেন্টের কাঠছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে যেন মার্চেন্ট গ্রাহকের থেকে এই খরচ আদায় না করে। পার্সন টু পার্সন লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ফি লাগু হবে না। সরকার জানিয়েছে এটা কোনও রকম কর নয়। এটি মার্চেন্ট পেমেন্ট সিস্টেমের পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য ইকোসিস্টেমের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া একটি ফি। এই ফি ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট সিস্টেমগুলি ভাগ করে নেবে। UPI ব্ঠযবহারের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি চার্জ নেওয়া না হলেও মার্চেন্টরা এই খরচ তুলতে তাদের মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ অন্তর্ভূক্ত করবে কি না, তা ভবিষ্যৎ বলবে।