
কারিগর ও হস্তশিল্পীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় ফের গতি এল পশ্চিমবঙ্গে। প্রায় তিন বছর আগে প্রকল্পের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও নানা কারণে তা কার্যকর হয়নি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের চালু হয়েছে প্রকল্পের পোর্টাল। শুরু হয়েছে পুরনো আবেদনকারীদের নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি নতুন আবেদন গ্রহণের কাজও। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে নথি ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অনেক আবেদনকারীর পেশা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য তথ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আবার কেউ কেউ আর প্রকল্পের সুবিধা নিতে আগ্রহী নন। তাই প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় ১৮ ধরনের ঐতিহ্যবাহী কারিগরি ও হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছুতোর, কর্মকার, স্বর্ণকার, নাপিত, পুতুলশিল্পী-সহ বিভিন্ন পেশার কারিগররা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
এই প্রকল্পে শুধু স্বল্প সুদে ঋণ নয়, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদন যাচাই সম্পূর্ণ হলে প্রথমে পাঁচ থেকে সাত দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর থাকবে ১৫ দিনের উন্নত প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা ভাতাও পাবেন।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘আর্টিসান কার্ড’ এবং প্রয়োজনীয় টুল কিট। এরপর প্রথম পর্যায়ে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। সেই ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা মিলবে। এই ঋণের সুদের একটি অংশে ভর্তুকিও দেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার নগর জীবিকা মিশনের সিটি মিশন ম্যানেজার প্রদীপ্ত দুবে জানান, পুরনো আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য ও নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। ভেরিফিকেশন শেষ হলে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ শুরু হবে এবং তারপর আবেদনকারীরা প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা পেতে পারবেন।