
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি। তার আগে বকেয়া ডিএ মেটানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখানেই মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে বড় ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মঙ্গলবার সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি শুভেন্দু জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দুর বক্তব্য, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি আর্থিক বছরের শেষে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই সংশোধিত বেতন ও পেনশনের সুবিধা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।
সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে শুভেন্দু
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দফতর এবং চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যপরিধি চূড়ান্ত হয়েছে। সাধারণত একটি বেতন কমিশন রিপোর্ট জমা দিতে প্রায় ছয় মাস সময় নেয়। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সংশোধিত বেতনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করব।' জানা গিয়েছে, কমিশন বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং সরকারি কর্মীদের অন্যান্য পরিষেবা-সংক্রান্ত সুবিধা খতিয়ে দেখে সরকারকে সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশ এবং রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সূত্রের খবর, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়েও বড় ঘোষণা
রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের DA-র ব্যবধান ৪২ শতাংশ। সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ DA দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে কেন্দ্রের সঙ্গে DA-র ব্যবধান আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’ শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, ‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল সময়। নকিং দ্য ডোর।’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এখন ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে যে ফারাক রয়েছে তা ধীরে ধীরে মেটানো হবে এবং বকেয়া ডিএ সময় মতো মিটিয়ে দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে।
PSC-র মাধ্যমে নিয়োগ
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিতে ইঞ্জিনিয়ার-সহ সমস্ত নতুন নিয়োগ পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (WBPSC) মাধ্যমে করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, 'সরাসরি দফতরের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বলে মনে করি না। ভবিষ্যতে সমস্ত নিয়োগ PSC-র মাধ্যমেই হবে।' রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীদের জন্য নতুন বদলি (Transfer) নীতিও চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি কর্মরত কর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মী বা সংস্থার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই নীতিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।