
সোমবার বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট পেশ। এই বাজেট ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা ও প্রত্যাশা বাড়তে শুরু করেছে। বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রীর স্বপন দাশগুপ্তের দিল্লি যাত্রা ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক মানুষের মধ্যে উৎসাহ আরও বাড়িয়েছে। অনেকেরই অনুমান, DA বৃদ্ধির কথা ঘোষণা হতে পারে বাজেটে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে ২২ জুন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর এখন মূলত নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২২ জুন সোমবার ঠিক দুপুর ১২টায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা রাজ্য বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় তার উপর স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরকার কী ধরনের রূপরেখা গ্রহণ করতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার ইঙ্গিত এই বাজেট থেকেই মিলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চলতি মাসের শুরুর দিকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আগামী রাজ্য বাজেটেই ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা করা হবে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন সম্পূর্ণভাবে আগামী ২২ জুনের বাজেট পেশের দিকে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যেখানে তাঁদের মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই ৪২ শতাংশের বিশাল ব্যবধান নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন 'যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ'-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ১ জুন সাংবাদিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র এই ফারাক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন সুপারিশ কার্যকর করার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত মে মাসেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুরসভা ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সমস্ত সংস্থার কর্মীদের বেতন ও ডিএ পর্যালোচনার জন্য 'সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন' গঠনে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, এই নতুন বেতন কমিশন সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। স্বাভাবিকভাবেই, এই বেতন কমিশন গঠন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র ফারাক কমানোর আশ্বাসের পর ২২ জুনের বাজেটে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের জন্য বড় কোনো ঘোষণা করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
অনেকেরই আশা এই বাজেট রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর আসছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণার পর সরকারি কর্মীদের একটা অংশ মনে করছে, রাজ্য বাজেট তাদের জন্য সুখবর বয়ে নিয়ে আসবে। এদিকে মুখ্য়সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেছেন, যে কোনও অফিশিয়াল ঘোষণার জন্য আগামী ২২ জুন ২০২৬ তারিখ পেশ করা হতে চলা রাজ্য বাজেট পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।
উল্লেখ্য, 'জনকল্যাণ শিবির' থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, '২২ জুন রাজ্য বাজেট। এদিন যুবকদের জন্য, নিয়োগ নিয়ে, সরকারি কর্মীদের জন্য, কৃষকদের জন্য আমরা কর্মসূচির ঘোষণা করতে চলেছি।' সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে ব্যবধান কমানো। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, এবারের বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
সম্ভাবনা
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় প্রত্যাশা অনেক বেশি। একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।