
বহু বছরের অপেক্ষা শেষ। এবার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটাতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই মতো ইতিমধ্যেই নোটিফিকেশন দিয়েছে অর্থ দফতর। ওই বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতেই দিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। আর এই টাকাটা পুজোর আগেই দেওয়া হবে বলে খবর মিলছে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই অক্টোবর মাসের বেতন, পেনশন এবং ডিএ ১৫ অক্টোবর দেবে বলে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে কবে? আর সেই প্রশ্নের উত্তরটাও অবশেষে দিয়েই দিল রাজ্য সরকার। তারা জানিয়ে দিল, ৮ বছরের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতেই দেওয়া হবে। সেই মতো নোটিফিকেশনও জারি হয়ে গিয়েছে।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে?
এই নোটিফিকেশনে জানান হয়েছে, সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক বা এআইসিপিআই-এর ১০০ শতাংশ হারেই বকেয়া ডিএ দেখা হবে। তবে এর আগে ২০১৬ থেকে ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। আর সেই টাকা অ্যাডজাস্ট করার পরই চূড়ান্ত বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কারা পাবেন? কীভাবে মিলবে?
অর্থ দফতর পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে কারা কারা এই টাকা পাবে। গ্রুপ এ থেকে ডি পর্যন্ত, সকলেই বকেয়া ডিএ পাবে। তবে পদমার্যাদা অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হবে আলাদাভাবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ এ, গ্রুপ বি এবং গ্রুপ সি, এই তিন পদমর্যাদার কর্মীদের বকেয়া ডিএ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। তবে গ্রুপ ডি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা। তাঁদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বকেয়া টাকা। এছাড়া যাঁরা আগামী ৩ মাস বা তার কম সময়ের মধ্যে অবসর নেবেন, তাঁদেরও সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে টাকা।
টাকা তোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি
গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়বে। তবে এই টাকা তোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে। এখানে জমা টাকা ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অ্যাডভান্স বা চূড়ান্ত টাকা তোলা যাবে না। তবে কোনও কর্মী যদি এই সময়ের আগেই অবসর নেন বা তাঁর মৃত্যু হয়, তাহলে এই নিয়ম শিথিল হবে।
আর বকেয়া ডিএ ঘোষণার পরই খুশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। তাঁরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।