
সরকার বদলের পর ইতিমধ্যেই রাজ্যে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে পুলিশেও চাকরির সুযোগ মিলবে বলে জানিয়েছেন। রবিবার গার্ডেনরিচের একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, পুলিশ, দমকল, বনবিভাগ এবং সিবিল ডিফেন্সে অগ্নিবীরদের সংরক্ষণের কথা জানালেন।
রবিবার শুভেন্দু অধিকারী জানান,'রাজ্যে পুলিশ, দমকল, বনবিভাগ এবং সিবিল ডিফেন্সে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ করে দিয়েছি। এক্স সার্ভিসম্যানদের সৈনিক বোর্ডের সঙ্গেও কাজ শুরু করেছি। সেপ্টেম্বরে ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্টের ২০০ জনের নতুন টিম অর্জুনবাহিনী তৈরি হচ্ছে। তারাতলার ঘটনার পর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং সিবিল ডিফেন্স থেকে বাহিনী তৈরি করার কথা বলেছিলাম। এতে অগ্নিবীরদের নেব। তবে জানুয়ারির আগে তাঁদের পাচ্ছি না। এখন সৈনিক বোর্ডের কাছ থেকে ২০০ জন লোক নিয়েছি। একশো জন থাকবে কলকাতায়, ৫০ জন থাকবে দার্জিলিঙে আর বাকি ৫০ জন সাগরে। যে কোনও বিপর্যয়ে তাঁরা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে পারবে'।
অগ্নিবীর কারা?
সেই ২০২২ সালে তিন বাহিনীতে নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁদের নিয়োগ করা হয়, তাঁরাই হলেন অগ্নিবীর। ওই সময় জানানো হয়েছিল, প্রতি বছর প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ অগ্নিবীর নিয়োগ করা হবে। মাত্র চার বছর থাকবেন সেনাবাহিনীতে। প্রতি বছর অগ্নিবীরদের মধ্যে মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে আরও ১৫ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে বাহিনীতে রেখে দেওয়া হবে। এই নিয়োগ ব্যবস্থা শুধুমাত্র অফিসার পদমর্যাদার নীচের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ যাঁরা কমিশনড অফিসার হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেবেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প নয়।
কী কী বেনিফিট?
অগ্নিবীর হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা। নিয়োগের ক্ষেত্রে শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে। নিয়োগের পর ৬ মাস প্রশিক্ষণ। এরপর প্রায় সাড়ে ৩ বছর বাহিনীতে কাজ। এই সময়ে তাঁদের প্রাথমিক মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা-সহ চার বছরের শেষে মাসিক বেতন বেড়ে প্রায় ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বেতনের ৩০ শতাংশ প্রতি মাসে ‘সেবা নিধি’ প্রকল্পে জমা রাখা হয়। সরকারও সমপরিমাণ টাকা প্রতি মাসে ওই তহবিলে দেয়। এর সঙ্গে যোগ হয় সুদও। ৪ বছরের চাকরি শেষ হলে প্রত্যেক অগ্নিবীর প্রায় ১১.৭১ লক্ষ টাকা এককালীন অর্থ পান। এই অর্থের উপর কোনও কর দিতে হয় না।চার বছরের জন্য প্রত্যেক অগ্নিবীরের ৪৮ লক্ষ টাকার জীবনবিমাও থাকে।
মৃত্যু হলে কী হয়?
৪ বছরের চাকরির সময় কোনও অগ্নিবীরের মৃত্যু হলে পরিবার ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পেতে পারে। এর মধ্যে বিমার অর্থের পাশাপাশি বাকি চাকরির মেয়াদের বেতনও রয়েছে।
৪ বছর পর চাকরি না থাকলে কী হয়?
চার বছর পর প্রতি ব্যাচের মাত্র ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে আরও ১৫ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ বছরের চাকরি অবসরকালীন সুযোগসুবিধার জন্য ধরা হয় না।
বিভিন্ন রাজ্যে অগ্নিবীরদের জন্য রয়েছে পুলিশ, বনবিভাগ এবং অন্যান্য বাহিনীতে সংরক্ষণের সুবিধে। চলতি জুন মাসে পুলিশ, কারা এবং বনবিভাগে ২০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছে গুজরাত সরকার। ছত্তিসগঢ়ের মন্ত্রিসভা ১০ শতাংশ সংরক্ষণে অনুমতি দিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে ৫০ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা সংসদে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের কোনও লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে না। এছাড়া শরীরিক পরীক্ষাও অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। সিআরপিফ, বিএসফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি এবং অসম রাইফেলসে ৫০ শতাংশ চাকরি অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত।