
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই রেশন কার্ডের দুর্নীতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করেছে বিজেপির। তাদের দাবি, অনেক অযোগ্য মানুষই দীর্ঘদিন রেশন পেয়ে আসছেন। তাদের জন্য যাঁরা যোগ্য প্রাপকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় হচ্ছে। তাই সরকারে আসার পরই রেশন কার্ডের দিকেও চোখ ঘুরিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। তারা রেশন কার্ড বাতিল করা শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ কার্ড রিজেক্ট হয়ে গিয়েছে। আর এই খবরেই অনেক রেশন প্রাপকের মাথা ব্যথা। তাঁরা বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ না করলে বাদ যেতে পারে রেশন কার্ড। আর সেই উত্তরটা দিতেই আজকের এই নিবন্ধটি।
শুরু হয়েছে যাচাই
ইতিমধ্যেই রেশন কার্ডের যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর মিলছে। এক্ষেত্রে যাদের রেশন কার্ডের প্রয়োজন নেই, রেশন পাওয়ার অযোগ্য, যারা ভারতীয় নন, তাদের চিহ্নিত করা চলছে। এই সব মানুষের রেশন কার্ড বাতিল করার কাজ শুরু হয়েছে।
কোন কোন শর্ত পূরণ না করলে রেশন কার্ড বাতিল?
এই বিষয়টা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা করেনি সরকার। তবে যতদূর খবর, রেশন কার্ড বাতিল করার জন্য কয়েকটি শর্ত সামনে আনা হয়েছে। সেই শর্তগুলি পূরণ করা না হলেই মিলবে না রেশন। তাই ঝটপট সেগুলি জেনে নিন।
১. বার্ষিক আয়
যাঁদের আয় বছরে ৬ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁদের রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে। কারণ, এই পরিমাণ আয়ে রেশন পাওয়ার কথা নয়।
২. এসআইআর-এ নাম বাদ
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে হয়েছে এসআইআর। আর সেই এসআইআর-এ কারও নাম বাদ গিয়ে থাকলে তিনি বাদ চলে যেতে পারেন। তবে ট্রাইব্যুনালে অ্যাপ্লাই করে রাখলে আপাতত মিলবে রেশন।
৩. সিএএ-তে নাম বাদ গেলে
অনেকেই নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করেছেন। আর সেক্ষেত্রে যদি এই আবেদন বাতিল হয়, তাহলে মিলবে না রেশন। তবে আবেদনের যদি এখনও নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে সেই ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রেশন মিলবে বলে জানা যাচ্ছে।
৪. এই সব ক্ষেত্রে কার্ড বাতিল
এক্ষেত্রে চারটি পাকা ঘরের বাড়ি থাকলে বা চার চাকার গাড়ি থাকলে বাতিল হতে পারে কার্ড। এছাড়া গ্রামে বসবাসকারী মানুষের যদি ট্র্যাক্টর থাকে, যদি প্রচুর পরিমাণে সেচযোগ্য জমি থাকে, ল্যান্ডলাইন ফোন থাকে বা আরও অন্যান্য কিছু নিয়মের জন্য রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে।
৫. সরকারি কর্মী হলে
রাজ্য-কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হলে বা পরিবারের সদস্যরা ইনকাম ট্যাক্স দিলে রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে।