
নেপালে যে রকম বিপর্যয় হল, তা পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়েও হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। যে ভাবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে দেদার হোটেল, হোমস্টে তৈরি হয়েছে, তাতে বাস্তুতন্ত্র বিগড়েছে আগেই। ওদিকে সিকিমেও কোনও বিপর্যয় হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে। এই সব বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজের জন্য অর্জুন বাহিনীর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দফায় রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জনকে নিয়ে এই বাহিনী গড়া হচ্ছে।
কীভাবে নিয়োগ করা হবে অর্জুন বাহিনীতে?
রাজ্যের এই অর্জুন বাহিনীতে নেওয়া হবে মূলত অবসরপ্রাপ্ত অগ্নিবীরদের। সেনা থেকে অবসর নেওয়া ৪০ বছরের কম বয়সীদের নিয়োগ করা হবে। আপাতত ২০০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকে নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই বাহনী। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) আদলে গড়া হচ্ছে অর্জুন বাহিনী। পাহাড় ও সুন্দরবনের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হলেও ভবিষ্যতে এনডিআরএফ (NDRF)-এর আদলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এই বাহিনীকে আরও বড় আকারে গড়ে তোলা হবে।
অর্জুন বাহিনীতে নিয়োগের যোগ্যতা কী?
রাজ্য সৈনিক বোর্ডের আওতায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের নিয়ে ২০০ সদস্যের এই বাহিনী প্রাথমিক ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই বাহিনীতে যোগ দিতে গেলে বয়স ৪০ বা তার কম হতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আপাতত ১০০ জনকে কলকাতায়, ৫০ জনকে সুন্দরবনে ও ৫০ জনকে দার্জিলিং পাহাড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে এই বাহিনী আরও বড় হবে।
মাইনে কত টাকা মিলবে?
অর্জুন বাহিনীর সদস্যরা মূলত সেনার অবসরপ্রাপ্তরাই হবেন। বাহিনীর প্রধানকে (বীরনায়ক) রাজ্য সরকারের তরফে ৪০ হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে। এছাড়া বাকি সদস্যরা পাবেন মাসে ২৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া প্রতিবছর ৩ শতাংশ হারে সাম্মানিক বাড়ানো হবে।
বিমা কভারেজ মিলবে এই কাজে, নিয়োগ কীভাবে হবে?
গুরুতর আহত বা প্রাণহানির ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজ থাকছে। এছাড়া ২০২৭-এর জানুয়ারি থেকে আসা অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের পুলিশ, ফায়ার, ফরেস্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০ শতাংশ সংরক্ষণ থাকছে।