Advertisement

নতুন শ্রম কোডে সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি, কোম্পানির কাছে চাইলেই পেয়ে যাবেন?

সলোমন অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার জার্মেইন পেরেইরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে মোট কাজের চাপ কমানো হয়নি, শুধু সময়সূচি সংকুচিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি গ্রহণ করলে কর্মীদের দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতে পারে।

নয়া শ্রমকোড নয়া শ্রমকোড
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 26 May 2026,
  • अपडेटेड 7:13 PM IST
  • নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থা চাইলে কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন কাজ
  • তিন দিন বিশ্রামের সুযোগ দিতে পারে

নতুন ঘোষিত কোড অন ওয়েজেস (সেন্ট্রাল) রুলস, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই চার দিন কাজ ও তিনদিন ছুটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই নিয়মে কাজের ঘণ্টা বাড়িয়ে ছুটির দিন বাড়ানোর কথা রয়েছে। তবুও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিকে কর্মসংস্কৃতির নিশ্চিত পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি এক ধরনের নমনীয় ব্যবস্থা। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থা চাইলে কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন কাজ এবং তিন দিন বিশ্রামের সুযোগ দিতে পারে, তবে মোট সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অর্থাৎ কাজের মোট সময় কমছে না, বরং কম দিনের মধ্যে সেই সময় ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কর্মীদের চার দিনে প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতে পারে, আর বিনিময়ে মিলবে দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক নয়, কেবল অনুমোদিত বিকল্প মাত্র।

সলোমন অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার জার্মেইন পেরেইরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে মোট কাজের চাপ কমানো হয়নি, শুধু সময়সূচি সংকুচিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি গ্রহণ করলে কর্মীদের দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নিয়মে সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন এবং সেই সংক্রান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, সংস্থাগুলি একতরফাভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চাপিয়ে দিতে পারবে না।

জেএসএ অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড সলিসিটর্স-এর পার্টনার সাজাই সিংহ জানিয়েছেন, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে কর্মীদের সম্মতি প্রয়োজন এবং এটিকে স্বয়ংক্রিয় অধিকার হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করালে কর্মীদের দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম দিতে হবে। এছাড়াও ১২ ঘণ্টার কাজের মধ্যে বাধ্যতামূলক বিরতি ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

পিএসএ-র প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার প্রীতি সুরি বলেন, এই কাঠামো নমনীয় কর্মসূচির সুযোগ দিলেও ওভারটাইম, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সংস্থাগুলিকে অব্যাহতি দেয় না। তাঁর মতে, সংস্থাগুলিকে উপস্থিতি নথিভুক্তকরণ, বেতন কাঠামো এবং ওভারটাইম ও বিশ্রামের সময় সঠিকভাবে নজরদারির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যদিও এই ধরনের কর্মসূচি কর্মী ধরে রাখা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে, তবে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি ক্লান্তি ও আইনগত জটিলতার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় নিয়মে নমনীয়তা থাকলেও বাস্তবায়ন অনেকাংশে রাজ্যভিত্তিক আইনের উপর নির্ভর করতে পারে।

শারদুল আমরচাঁদ মঙ্গলদাস অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার পূজা রামচন্দানি জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যের শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট আইন এখনও দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজের সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে, যা চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে।

সিএমএস ইন্ডাসল’র পার্টনার দেবজানি আইচ বলেন, শ্রম কোড অনুযায়ী তাত্ত্বিকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ সম্ভব হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন, কারণ অনেক রাজ্য এখনও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা অনুমোদনকারী সংশোধনী আনেনি।

সারাফ অ্যান্ড পার্টনার্স-এর পার্টনার আদিল লাধা জানিয়েছেন, কোনও সংস্থাকে এই ব্যবস্থা চালুর আগে কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, উৎপাদনশীলতা এবং কার্যকরী সক্ষমতা বিচার করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইটি, আইটিইএস এবং জ্ঞানভিত্তিক পরিষেবা ক্ষেত্রগুলি তুলনামূলকভাবে সহজে এই ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেও স্বাস্থ্য পরিষেবা, লজিস্টিক্স, আতিথেয়তা এবং উৎপাদন শিল্পে বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ আপাতত কর্মসংস্কৃতির বড় পরিবর্তনের চেয়ে একটি শর্তসাপেক্ষ বিকল্প হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, যার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্য সরকার ও সংস্থাগুলির সিদ্ধান্তের উপর। 

Read more!
Advertisement
Advertisement