
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার পর থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে জ্বালানির দাম নিয়ে। দেশে কেন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সস্তা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শোধনাগার কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, এমনকি সম্ভবত ইতিমধ্যেই তা হয়েও গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে তেল শোধনের ক্ষমতা বছরে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমটিপিএ) থেকে বাড়িয়ে ৩০০ এমটিপিএ-তে নিয়ে যাওয়া হবে।
জ্বালানির দাম নিয়ে মন্ত্রী কী বললেন?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রাহকদের জন্য দামের ক্ষেত্রে খুব বেশি বৃদ্ধি করা হয়নি। জ্বালানির দাম আরও কবে কমতে পারে, এমনই একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বর্তমানে যে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে, তা অপরিশোধিত তেলের আকারে আগে কেনা হয়েছিল। অর্থাৎ যখন ক্রুড অয়েলের দাম বেশি ছিল, তখনকার কেনা অপরিশোধিত তেলই এখন দেশের বাজারে পরিশোধিত করে বিক্রি করা হচ্ছে।
সেই কারণেই এখনকার জ্বালানির দাম, বেশি দামে কেনা অপরিশোধিত পেট্রোলের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তেল ও ডিজেল কোম্পানিগুলো ব্যাপক লোকসান ও বর্ধিত খরচের সঙ্গে ব্যালেন্স করতে হিমশিম খাচ্ছে।
শুল্ক হ্রাস
হরদীপ সিং পুরী জাননা, অপরিশোধিত তেলের টানা মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের উপর বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রোল ও ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমানোর ফলে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
তেলের দাম এখন আদৌ কমবে?
তেলের দাম এখন কমবে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিতে রাজি হননি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। তিনি বলেন, "যদি দাম বর্তমান পর্যায়েই থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে। এই বিষয়ে অনুমান করা ঠিক হবে না।"