
দেশের মানুষের কাছে সবথেকে সস্তায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছানোর পথ হল ট্রেন। তাই ভারতীয় রেলকে দেশের পরিবহণের লাইফলাইন বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। নিত্যদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। আর রেলে পরিবহণ করা মানুষেরা একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন যে, প্রায় সব স্টেশনের নামই হলুদ এবং কালোয় লেখা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন হলুদের উপর কালো দিয়ে লেখা হয় নাম? আর সেই উত্তরটা জানতে অবশ্যই প্রতিবেদনটি পড়তে হবে।
হলুদের উপর কালো দিয়ে লেখা হয় স্টেশনের নাম
স্টেশনে যাওয়ার পর দেখবেন যে একটি সিমেন্ট বা অন্য কোনও ধরনের বোর্ডের উপর হলুদ রং করা রয়েছে। তার উপর কালো অক্ষরে লেখা হয়েছে স্টেশনের নাম। মোটামুটি দেশের প্রায় সব স্টেশনেই এভাবে নাম লেখা হয়।
এখন প্রশ্ন হল, কেন শুধু হলুদ এবং কালোয় এই নাম লেখা হয়? অন্য রঙে কেন লেখা হয় না? আর এমনটা হওয়ার পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত কারণ।
কেন হলুদ এবং কালোয় লেখা হয় স্টেশনের নাম?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হলুদ এবং কালোয় স্টেশনের নাম লেখার নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। আসলে আমাদের সামনে যে সাতটি মূল রং রয়েছে, তার মধ্যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের হিসেবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে হলুদ। এই কারণেই হলুদকে প্রায়োরিটি দেওয়া হয়।
এবার বলবেন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিষয়টা আবার কী? সহজে বললে, কোন রং কত দূর থেকে দেখা যাবে সেটা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর ঠিক হয়। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, ঠিক তত দূর থেকে দেখা যাবে রং। আর এই এই লিস্টে সবার উপরে থাকে লাল রং। তাই বিপদ বা স্টপ সিগন্যাল হিসেবে লাল ব্যবহার করা হয়। যাতে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাওয়া যায়।
তাহলে আবার জিজ্ঞেস করতে পারেন, কেন হলুদ রঙের বদলে লাল রং দিয়ে প্ল্যাটফর্মের নাম লেখা হল না? এরও উত্তর রয়েছে বিজ্ঞানের কাছে। আসলে হলুদ রঙের পার্শ্বীয় পেরিফেরাল দৃষ্টি লাল রঙের তুলনায় ১.২৪ গুণ বেশি। যার ফলে সরলরেখায় না থাকলেও এটি অনেক দূর থেকে দেখা যায়। তাই এই হিসেবে লাল রঙের থেকে হলুদ রং অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
তবে প্ল্যাটফর্মের নাম হলুদ রঙে লেখা হয় না। হলুদের উপর কালো রং ব্যবহার করা হয়। আর এটা করা হয় একটি বিশেষ কারণে। এক্ষেত্রে হলুদ রঙের উপর কালো রং খুব ভাল ফুটে ওঠে। যার ফলে লেখাটি দূর থেকে দেখা যায়। আর এই কারণেই হলুদের উপর কালো রঙে প্ল্যাটফর্মের নাম লেখা হয়।
তাই এবার থেকে যদি কেউ এই বিষয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে তাঁকে অবশ্যই এই কারণগুলি বলে দেবেন।