
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা এখন অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য অপেক্ষায়। তাঁরা ভাবছেন কবে থেকে হাতে মিলবে বর্ধিত বেতন। যদিও সেই বেতন পেতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তার আগে নতুন মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আসলে জুলাই মাস আসতে আর কয়েকদিন বাকি। মুদ্রাস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ প্রত্যাশা বাড়ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তবে মুদ্রাস্ফীতির জন্য ডিএ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেন আবার ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা?
কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত বছরে দুইবার, জানুয়ারি ও জুলাইতে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংশোধন করে। এটি মূলত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামলাতে সাহায্য করে।
চূড়ান্ত ডিএ হার নির্ধারণ করা হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্সের মূল্য সূচক-এর ভিত্তিতে। এই সূচক খুচরো বাজারের দামের পরিবর্তন ঠিক করে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর সরকার নতুন হার নির্ধারণ করে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়।
৮ম পে কমিশনের সুপারিশ এখনও কার্যকর না হওয়ায়, কর্মচারীরা বর্তমানে ৭ম পে কমিশনের কাঠামো অনুযায়ীই ডিএ পাচ্ছেন।
সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতির ডেটা কী বলছে?
২০২৬ সালের মে মাসের সাময়িক মুদ্রাস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী, এখনও খুচরো বাজারে দাম রয়েছে ঊধ্বমুখী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৯৩% হয়েছে। এটি এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৪৮%। গ্রামীণ এলাকায় এটি বেড়ে হয়েছে ৪.২৫% (আগে ছিল ৩.৭৪%)। আর শহরাঞ্চলে বেড়ে হয়েছে ৩.৫৩% (আগে ছিল ৩.১৬%)।
এই সময় খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্স (CFPI) অনুযায়ী মে মাসে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৭৮% হয়েছে। এটি এপ্রিল মাসে ছিল ৪.২০%। গ্রামীণ খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৪.৮৫%। আর শহরাঞ্চলে তা বেড়ে হয়েছে ৪.৬৬%।
সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যদ্রব্যের দামের এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার খরচ এখনও বেশি। যদিও ডিএ সরাসরি সিপিআই-ডব্লু এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়। তবুও এই পরিসংখ্যানগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা এখনও অব্যাহত।
বর্তমানে কত ডিএ পাচ্ছেন কর্মীরা?
কেন্দ্রীয় সরকার সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মহার্ঘ ভাতা সংশোধন করে। যেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে ২ শতাংশ বৃদ্ধি অনুমোদন করা হয়। এই সংশোধনের ফলে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ/ডিআর ৫৮% থেকে বেড়ে ৬০% হয়েছে।
পরবর্তী ডিএ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি ও সিপিআই-ডব্লু এর সম্ভাব্য পরিবর্তনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে ডিএ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।