
অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ৩ হাজার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে অফলাইন ও অনলাইন, দুই মাধ্যমেই জোরকদমে চলছে নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া। আবেদনপত্রের সঙ্গে একাধিক নথি জমা দিতে হচ্ছে বলে অনেক ক্ষেত্রেই ফর্ম পূরণের সময় ভুলভ্রান্তি হচ্ছে। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সামান্য ভুলের কারণে কি আবেদন বাতিল হয়ে যাবে, নাকি সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অফলাইনে জমা দেওয়া ফর্মে কোনও ভুল থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা সংশোধন করার সুযোগ মিলতে পারে। প্রয়োজন হলে ভুল অংশ কেটে সংশোধন করে পুনরায় আপলোড বা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে অনলাইন আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি সংবেদনশীল। একবার ভুল তথ্য জমা পড়ে গেলে পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ নাও মিলতে পারে। তাই আবেদন করার সময় প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে আয় সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আবেদনপত্রের শেষে একটি ঘোষণাপত্র রয়েছে, যেখানে আবেদনকারীকে প্রদত্ত সমস্ত তথ্য সঠিক বলে স্বীকার করতে হয়। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সেই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার অর্থ নিয়মভঙ্গের শামিল, যা ভবিষ্যতে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি অন্য জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে যে তথ্যগুলি জমা দিতে হবে
পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, আধার নম্বর এবং ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ঠিকানা এবং যোগাযোগের নম্বর।
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য।
প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর এবং জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য।
রেশন কার্ড, বাসস্থানের ধরন, জমির মালিকানা, যানবাহন এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত তথ্য।
আয়কর এবং প্যান কার্ডের তথ্য।
কর্মসংস্থানের ধরন এবং পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ।
পরিবার কোনও জিএসটি-নিবন্ধিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না।
পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী বা কোনও রাজনৈতিক পদাধিকারী কি না।
সিএএ, এসআইআর এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী সংক্রান্ত তথ্য।
পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ের তথ্য এবং টিকাকরণের বিবরণ।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনও আবেদন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে তার কারণ উল্লেখ করতে হবে। ফলে আবেদনকারীরা বাতিলের কারণ জানার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো না করে সমস্ত নথি ও তথ্য যাচাই করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।