
ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি রাজ্যে চালু করেছে অন্নপূর্ণা যোজনা। জুন মাস থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে তিন হাজার টাকা। সেইসঙ্গে বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাও বাড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এদিকে ভোটের আগে বিজেপি সবেকার যুবদের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। তবে, এখনও পর্যন্ত তা রাজ্যে চালু হয়নি। অক্টোবরে চালু হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
কবে চালু হতে পারে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’?
'অন্নপূর্ণা যোজনা'র পর পুজোর আগেই রাজ্যে এই বড় প্রকল্প চালু হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। বাংলার কর্মহীন, শিক্ষিত যুবক, যুবতীদের জন্যে চালু হতে চলেছে 'যুবশক্তি ভরসা কার্ড' প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, পয়লা অক্টোবর থেকেই রাজ্যে 'যুবশক্তি ভরসা কার্ড' প্রকল্প চালু হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০০০ ও ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। রাজ্য বাজেটেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, বাংলার সকল কর্মহীন ও শিক্ষিত যুবক, যুবতীরা মাসে মাসে ভাতা পাবেন 'ভরসা কর্মসূচি'র অধীনে।
কারা টাকা পাবেন?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট, কর্মহীন যুবক যুবতীরা মাসে ৩০০০ টাকা ও নন-গ্র্যাজুয়েট, কর্মহীন যুবক, যুবতীরা মাসে ২০০০ টাকা করে পাবেন। তবে ২০০০ টাকার পাওয়ার জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, তা এখনও ঘোষণা করেনি রাজ্য সরকার। অক্টোবরের শুরুতেই, অর্থাৎ পুজোর আগেই 'যুবশক্তি ভরসা কার্ড' প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরু হতে পারে। নতুন সপ্তাহেই এই প্রকল্প নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করতে পারে সরকার। এমনকী 'যুবশক্তি'র পোর্টালও চালু হতে পারে।
কোন কোন নথি লাগবে?
'যুবশক্তি ভরসা কার্ড' প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ফর্মে কী কী নথি জমা দিতে হবে, সরকারের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। কিন্তু সূত্রের খবর, এর জন্য আবেদনকারীর ছবি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ডের তথ্য জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীদের বার্থ সার্টিফিকেট, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র প্রয়োজন হতে পারে। গ্র্যাজুয়েট কর্মহীন যুবক, যুবতীদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরিজিনাল ও প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। তবেই মাসে মাসে ৩০০০ টাকা পাবেন। ২০০০ টাকার ক্ষেত্রে কী কী সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে, তার জন্য সরকারের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
১৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা
উল্লেখ্য, পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের চালু করা ‘বাংলার যুব সাথী যোজনা’ বন্ধ করে তার পরিবর্তে এই নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। পূর্বতন প্রকল্পে যেখানে মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়া হতো, শুভেন্দু সরকার সেই ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করেছে। নতুন এই ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প’-এ ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিগত ক্ষেত্রে দুটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পে ভাতার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, নতুন নিয়মে যুবকেরা স্থায়ী কর্মসংস্থান বা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন। এর পাশাপাশি,প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বইপত্র কেনার জন্য যুবকদের এককালীন ১৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও একটি বিশেষ প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই প্রকল্পে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার সেই যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা, যাঁরা রাজ্যের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি
এছাড়া, কয়েক দশক ধরে বাংলায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী পরিবারের হিন্দিভাষী যোগ্য যুবকেরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আর্থিক কারসাজি ও জালিয়াতি রুখতে নবান্নের তরফ থেকে এই প্রকল্পের জন্য একটি নতুন সরকারি ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে এবং আবেদনের ক্ষেত্রে চারটি কঠোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। পাশাপাশি আবেদনের সময় প্রার্থীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে এবং অন্য কোনও সরকারি বৃত্তি পাওয়া চলবে না।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, অনলাইন আবেদনের পর প্রশাসনিক স্তরে প্রতিটি প্রার্থীর নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সরেজমিনে যাচাই করা হবে এবং কোনও তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে আবেদন তৎক্ষণাৎ বাতিল হবে। নবান্নের আধিকারিকরা যুবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাঁরা যেন কোনও অননুমোদিত বা ভুয়ো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করেন এবং পোর্টাল নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করেন।
কারা পাবেন যুবশক্তি ভরসা কার্ড?
কীভাবে আবেদন করবেন?
যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে যুবদের মধ্যে উন্মাদনা বেড়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। অনলাইন আবেদন পোর্টালও খোলা হয়নি। অর্থাৎ, বর্তমানে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য কোনও আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে আবেদন শুরু হলে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণেই অনেক শিক্ষিত বেকার যুবরা আগেভাগে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত নথি সংগ্রহ করে রাখছেন। আপাতত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাস থেকে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আবেদন জমা নেওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের নথি যাচাই করা হবে। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নভেম্বর মাস থেকে টাকা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, টাকা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সূচি এবং সরকারি পোর্টালের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলি নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।