
নকল পিস্তল দেখিয়ে গলার হার ছিনতাই। বাইকে চেপে এসে চিকিৎসক ও তাঁর স্ত্রীকে ভয় দেখাচ্ছিল দুই দুষ্কৃতী। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে দিলেন এক সাহসী যুবক(ভিডিও দেখতে নিচে যান)। এক জন দুষ্কৃতীকে ঘটনাস্থলেই ধরে ফেললেন স্থানীয়েরা। অন্য জন পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
ঘটনাটি রাজস্থানের আজমীরের সিভিল লাইন্স এলাকার। শনিবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মহেন্দ্র জৈন এবং তাঁর স্ত্রী সুচিত্রা জৈন। মহেন্দ্র অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক। স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। দু’জনে স্কুটারে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
সেই সময় তাঁদের পিছু নেয় বাইকে থাকা দুই যুবক। আচমকাই তারা মহিলার গলার হার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় দুষ্কৃতীদের বাইক। একই সঙ্গে ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার স্কুটারও উল্টে যায়।
এর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এক দুষ্কৃতী উঠে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে পিস্তলের মতো দেখতে একটি অস্ত্র বের করে। সেটি দেখিয়ে দম্পতিকে ভয় দেখায় সে। পরে মহেন্দ্রের স্ত্রী সুচিত্রার গলা থেকে হার ছিনিয়ে নেয়।
দেখুন ভিডিও:
বিপদ বুঝতে পেরে চুপ করে থাকেননি সুচিত্রা। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে সাহায্যের জন্য ডাকতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
ঘটনাস্থলে প্রথম দিকে পৌঁছন এক ব্যক্তি। তিনি কোনও রকম ভয় না পেয়ে বাইকের কাছে থাকা এক দুষ্কৃতীর দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বাইক থেকে ফেলে দেন। যদিও সেই দুষ্কৃতী কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এর পর ওই ব্যক্তি আহত দম্পতির দিকে এগিয়ে যান। তাঁদের সাহায্য করতে থাকেন। ততক্ষণে আরও বেশ কয়েক জন মানুষ ঘটনাস্থলে চলে আসেন। ভিড় দেখে দ্বিতীয় দুষ্কৃতীও পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়েরা তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুরো ঘটনাটিই কোনও ভাবে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ভিডিয়োই এখন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক জন মানুষ জড়ো হয়েছেন। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সিভিল লাইন্স থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শুরু হয়েছে তদন্ত। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ঘটনাটির ভিডিয়ো এবং সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।