
দেশের তিন প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনী; আর্মি, নেভি এবং এয়ার ফোর্স। শুধু ভারত নয়। বেশিরভাগ দেশেই এমন। অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, এদের মধ্যে কাদের ট্রেনিং সবচেয়ে কঠিন? আর শক্তির দিক থেকে কে এগিয়ে? আসুন বুঝে নেওয়া যাক। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই তিন বাহিনীর আলাদা আলাদা কাজ আছে। ট্রেনিং-ও আলাদা। এক-এক বাহিনীর কাজের ধরন যেমন আলাদা, তেমনই তাদের প্রস্তুতির ধরণও আলাদা।
আর্মি: মাটিতে যুদ্ধ, কঠিন সহ্যশক্তির পরীক্ষা
ভারতীয় সেনাবাহিনী বা আর্মির কাজ মূলত স্থলভাগে যুদ্ধ করা। পাহাড়, মরুভূমি, জঙ্গল; সব জায়গায় লড়াই করতে হয়। তাই তাদের ট্রেনিংই সবচেয়ে কঠিন হয়।
দীর্ঘ সময় দৌড়, ভারী ওজন নিয়ে হাঁটা, কম খাবারে টিকে থাকা; এসবই আর্মির ট্রেনিংয়ের অংশ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক সহ্যশক্তির বড় পরীক্ষা দিতে হয়। অনেকেই মনে করেন, আর্মির ট্রেনিং সবচেয়ে কঠিন।
নেভি: জলে যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও ধৈর্যের লড়াই
নেভির কাজ সমুদ্রে। জাহাজ, সাবমেরিন; সবকিছু সামলাতে হয়। তাই নেভির ট্রেনিংয়ে জলের উপর দক্ষতা খুব জরুরি।
সাঁতার, ডাইভিং, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা; এসব শেখানো হয়। এর সঙ্গে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ। সমুদ্রের প্রতিকূল অবস্থায় ঠান্ডা মাথায় কাজ করার ক্ষমতা দরকার। তাই নেভির ট্রেনিংও কম কঠিন নয়।
এয়ার ফোর্স: আকাশে যুদ্ধ, দ্রুত সিদ্ধান্তের পরীক্ষা
এয়ার ফোর্সের কাজ আকাশে। যুদ্ধবিমান চালানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া; এই বাহিনীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
পাইলটদের ট্রেনিং অত্যন্ত কঠিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ভুলের কোনও জায়গা নেই। উচ্চ গতিতে উড়ান, প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার; সবকিছুতেই দক্ষ হতে হয়।
মানসিক চাপ এখানে সবচেয়ে বেশি থাকে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী কে?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই। কারণ তিনটি বাহিনীই একে অপরের উপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের সময় আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্স একসঙ্গে কাজ করে। কেউ একা শক্তিশালী নয়; বরং একসঙ্গে কাজ করলেই দেশ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।
তবে একটি বিষয় বলা যায়, তিন বাহিনীর ট্রেনিংই কঠিন, তবে ধরন আলাদা। আপনার কাছে কোনটা কঠিন মনে হবে, তা আপনার ক্ষমতা ও পছন্দের উপর নির্ভর করবে।