Advertisement

Ashoke Sen: বিজ্ঞানী অশোক সেন ঠিক কী আবিষ্কার করেছেন? সহজ ভাষায় বুঝুন

পদার্থবিদ্যার জগতে বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেন পদক পেয়েছেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ, যিনি এই সম্মান পেলেন।

অস্কার ক্লেন পদক পেলেন অশোক সেন! কী আবিষ্কার তাঁর? অস্কার ক্লেন পদক পেলেন অশোক সেন! কী আবিষ্কার তাঁর?
সৌমিক মজুমদার
  • কলকাতা,
  • 08 Nov 2026,
  • अपडेटेड 3:41 PM IST
  • বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন।
  • ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেন পদক পেয়েছেন।

পদার্থবিদ্যার জগতে বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেন পদক পেয়েছেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ, যিনি এই সম্মান পেলেন। এর আগে স্টিফেন হকিং, পিটার হিগস, স্টিভেন ওয়াইনবার্গের মতো বিজ্ঞানীরা এই পদক পেয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী কাজের জন্য এই সম্মান? পদার্থবিদ্যা শুনে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আসুন, একেবারে সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক। তার আগে অশোক সেনের ব্যাপারে একটু সংক্ষেপে জেনে নিন।

অশোক সেন কে?
অশোক সেন দেশের অন্যতম বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং আইআইটি কানপুরে পড়াশোনা করেন। পরে আমেরিকার স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। বিদেশে গবেষণার কাজের পর ১৯৮৮ সালে দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেসে ইনফোসিস-মাধব চেয়ার অধ্যাপক। স্ট্রিং থিয়োরি নিয়ে তাঁর কাজ গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে।

স্ট্রিং থিয়োরি কী?
আমাদের চারপাশের সব কিছু অতি ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি। স্ট্রিং থিয়োরি বলছে, সেই কণার ভিতরের আসল গঠন হয় তো বিন্দুর মতো নয়। বরং অতি সূক্ষ্ম সুতো বা তারের মতো।

এই তারগুলি আবার নানাভাবে কাঁপে। যেমন ধরুন গিটারের তার। গিটারের তার দেখবেন, আলাদাভাবে কাঁপানো হলে নানারকম আলাদা সুর তৈরি হয়। ঠিক তেমনই এই ক্ষুদ্র স্ট্রিংয়ের কম্পন থেকেই বিভিন্ন কণার মূল বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে।

এই তত্ত্ব দিয়ে মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম জগতের নিয়মকে বোঝার চেষ্টা চলছে।

অশোক সেনের অবদান কী?
নব্বইয়ের দশকে স্ট্রিং থিয়োরির একাধিক আলাদা রূপ ছিল। অশোক সেন দেখান, 'এস-ডুয়ালিটি' নামে এক সম্পর্কের মাধ্যমে কোনও তত্ত্বের দুর্বল বলের হিসাব অন্য তত্ত্বের প্রবল বলের হিসাবের সঙ্গে মেলানো যায়।

কঠিন অঙ্ক এক দিক থেকে না মিললেও অন্য দিক থেকে সহজ হতে পারে। এতে আলাদা আলাদা তত্ত্বের মধ্যে গভীর যোগসূত্র বোঝা সম্ভব হয়।

ব্ল্যাক হোল নিয়েও তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই জানেন, ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষ এত প্রবল যে আলোও বেরোতে পারে না। এর 'এনট্রপি' বলতে ভিতরে কত রকম ক্ষুদ্র অবস্থা থাকতে পারে, তার হিসেব বোঝায়। অশোক সেন স্ট্রিং থিয়োরি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ধরনের ব্ল্যাক হোলের এই অবস্থাগুলি গুনে দেখানোর পদ্ধতি ডেভেলপ করেন। মহাকর্ষের সূত্রে পাওয়া হিসেবের সঙ্গে সেই ফল মিলে যায়। এতে ব্ল্যাক হোলের ভিতরের জগৎ বোঝার একটি নতুন পথ খুলে গিয়েছে।

Advertisement

এছাড়াও স্ট্রিং ফিল্ড থিয়োরি এবং অস্থায়ী ডি-ব্রেনের আচরণ নিয়েও তাঁর কাজ রয়েছে। অর্থাৎ, একটিমাত্র আবিষ্কার নয়, বহু বছরের গবেষণার স্বীকৃতি এই পদক। স্ট্রিং থিয়োরি এখনও পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবু মহাবিশ্বের মৌলিক নিয়ম, মহাকর্ষ এবং অতি ক্ষুদ্র কণার সম্পর্ক বুঝতে এই গবেষণা অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

Read more!
Advertisement
Advertisement