
Chhatrapati Sambhajinagar Family Death: ফোন কেনার মতো তুচ্ছ বিষয়। আর তার জেরেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে গেল গোটা পরিবার। আত্মহত্যার চেষ্টায় থাকা ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়লেন বাবা। ঘটনার আকষ্মিকতায় ঝাঁপ দিলেন মা-ও। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের তিসগাঁও এলাকার ঘটনা। ১৯ বছরের ছেলে কুণাল চাঁদগুড়ে, তাঁর বাবা মুরলীধর এবং মা সঙ্গীতার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, নতুন মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর কুণাল পাহাড়ে উঠেছিলেন। লাফ দেবেন বলে ভয় দেখাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁকে আটকাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রতিবেদনের শেষে সেই ভিডিও এম্বেড করা হল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ কুণাল ছত্রপতি খভড্যা ডোঙ্গর পাহাড়ে উঠে যান। পরিবারের সঙ্গে নতুন মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে তাঁর মনোমালিন্য হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাহাড়ের বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ছুটে যান তাঁর বাবা-মা। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং দমকলকর্মীরাও পৌঁছন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুণালকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁকে নিরাপদ জায়গায় ফিরে আসার জন্য বার বার অনুরোধ করেন মা সঙ্গীতা। স্থানীয় মোড়ল-সহ অন্যরাও তাঁকে বোঝাতে থাকেন। এমনকি তাঁকে গ্রামের সকলের তরফ থেকে আইফোন কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন মোড়ল। পাহাড়ের নিচে সেফটি নেট বসানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কুণাল কোনও কিছুতেই মানছিলেন না। বার বার পাহাড়ের খাদের দিকে সরে যাচ্ছিলেন।
ছেলেকে ধরতে গিয়ে বাবার মৃত্যু
দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কুণালকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবা মুরলীধর তাঁর কাছে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুণাল হঠাৎ নিচে পড়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন মুরলীধরও। সেই সময় দু’জনেরই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দু’জনই পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই কুণাল ও তাঁর বাবা মুরলীধরের মৃত্যু হয়। পরে স্বামী ও ছেলেকে চোখের সামনে পড়ে যেতে দেখে সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে পড়ে যান এবং তাঁরও মৃত্যু হয়। তিন জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাড়িতে এখন শুধু পোষা কুকুর
পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁদের বাড়ি কার্যত ফাঁকা। শুধুমাত্র রয়ে গিয়েছে তাঁদের পোষা কুকুরটি। স্থানীয়দের দাবি, কুণালে প্রতিদিন সকালে তাকে নিয়ে হাঁটতে বেরোতেন।
কুকুরটিও যেন তাঁদের আচমকা অনুপস্থিতি বুঝতে পারছে। প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে তাকে খাবার ও জল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
মুরলীধর পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। কিছু দিন আগেই ওই এলাকায় থাকতে শুরু করেছিল। সুন্দর ছিমছাম একতলা বাড়ি। আর পাঁচটা সাধারণ, মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই। কিন্তু একটি ফোন নিয়ে মনোমালিন্য থেকে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা এখনও মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরা। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মনোবিদরা বলছেন, তীব্র রাগ, হতাশা বা ঝগড়ার মুহূর্তে অনেকেই যুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে রাগের মাথায় কোনও চরম সিদ্ধান্ত নিলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারই প্রমাণ এই ঘটনা।