
চাকরি পাওয়ার সময় দেখিয়েছিলেন পুরনো চাকরির মোটা বেতনের নথি। সেই কাগজের ভিত্তিতেই মিলেছিল বড় পদ। শুধু ভাইস প্রেসিডেন্ট নয়, পরে গ্রুপ সিইও-র দায়িত্বও পান তিনি। কিন্তু চাকরি ছাড়ার ফাঁস হল রহস্য। ফাইনাল সেটলমেন্টের সময় নথি যাচাই করতে গিয়ে সংস্থার হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, যে সংস্থায় কাজ করার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে আদৌ চাকরিই করেননি ওই ব্যক্তি।
ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের। গোয়ালিয়র ক্রাইম ব্রাঞ্চ ৪৩ বছরের দেবেন্দ্র কুমার দুবেকে কানপুর থেকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের অভিযোগ, ভুয়ো অভিজ্ঞতার শংসাপত্র এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে তিনি অটোমোবাইল সংস্থায় চাকরি নিয়েছিলেন। ওই নথিতে আগের সংস্থা থেকে মাসে ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৭০ টাকা বেতন পাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। গোয়ালিয়র পুলিশের প্রকাশিত তথ্যেও এই অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে।
কীভাবে বড় পদে চাকরি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ অগস্ট শ্রীতুলজা ভবানী অটোমোবাইলস প্রাইভেট লিমিটেডে গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে যোগ দেন দেবেন্দ্র। সংস্থাটি ‘অনন্ত টয়োটা’ নামেও পরিচিত। চাকরির সময় তিনি দাবি করেছিলেন, এর আগে ল্যান্ডমার্ক গ্রুপে কাজ করেছেন।
এই দাবির সমর্থনে অভিজ্ঞতার শংসাপত্র এবং একটি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর মাসিক বেতন দেখানো হয়েছিল ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৭০ টাকা। পুলিশের দাবি, পরে তদন্তে ওই নথিগুলিই ভুয়ো বলে উঠে আসে।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সংস্থা তাঁর কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়। তাঁকে গ্রুপ সিইও (আফটার সেলস)-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, ভুয়ো নথি ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সংস্থার ভিতরে কিছু দিন তিনি আরও বড় পদে কাজ করেন।
মে মাসে ইস্তফা, তার পরেই বিপত্তি
প্রায় কয়েক মাস কাজ করার পর ২০২৬ সালের মে মাসে চাকরি ছেড়ে দেন দেবেন্দ্র। আর সেই ইস্তফাই শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
চাকরি ছাড়ার পরে সংস্থায় শুরু হয় তাঁর ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটলমেন্ট’-এর প্রক্রিয়া। সেই সময় পুরনো চাকরি এবং বেতনের নথি যাচাই করা হয়। তখনই ল্যান্ডমার্ক গ্রুপে তাঁর চাকরি করার দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গোয়ালিয়র পুলিশের দাবি, যাচাই করে দেখা যায়, ওই সংস্থায় দেবেন্দ্রের কাজ করার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর জমা দেওয়া ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তদন্তে সেটি জাল এবং কূটরচিত বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়।
নথি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর সংস্থার তরফে গোয়ালিয়র ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে দেবেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে পুলিশ। গোয়ালিয়র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ৩৩/২৬।
মামলা হওয়ার পর গোয়ালিয়র ছেড়ে চলে যান দেবেন্দ্র। পুলিশ তাঁর খোঁজ শুরু করে। তদন্তের সময় প্রযুক্তিগত সূত্রে তাঁর কানপুরে থাকার খবর পাওয়া যায়।
কানপুর থেকে গ্রেফতার
এর পর গোয়ালিয়র ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল কানপুরে যায়। পনকি থানা এলাকার বৈষ্ণবী কুঠি থেকে দেবেন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাঁকে গোয়ালিয়রে নিয়ে এসে আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের নজরে আরও কয়েকটি প্রশ্ন। পুলিশের দাবি, অভিজ্ঞতার শংসাপত্র এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।