
'হই হই হই করবে বলে, কোমোড় দুলে, দুহাত তুলে দুগ্গা ঠাকুর আসছে বলে...'। গোটা পুজো জুড়ে ইনস্টা খুললেই ভেসে এসেছে এই গান। সপ্তমীতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে রিল বানানো হোক বা নবমীর সন্ধ্যার বন্ধুদের আড্ডা, সব কিছুরই ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে এই গান। তবে জানেন কি, এই ভাইরাল গানটি স্পটিফাইতে ব্যান হয়ে গিয়েছিল? গানের স্রষ্টাকে চেনেন?
রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই গানটি তৈরি করেছেন infra_rs. ইনস্টা আইডি এটা হলেও তাঁর আসল নাম রোহিত। ইনডিপেন্ডেন্ট শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি। 'দুগ্গা মা আসছে' নিজের প্রেমিকাকে ডেডিকেট করে বানিয়েছিলেন, তবে হয়তো নিজেও ভাবেননি এটা এ বছরের পুজোর থিম সং হয়ে যাবে।
ভাইরাল এই রিল ট্র্যাক তৈরির অজানা কাহিনিও নিজে মুখেই শেয়ার করেছেন রোহিত। গানটি নিয়ে নিজেও সংশয়ে ছিলেন শিল্পী। বন্ধুর বলেছিলেন, 'পুজোয় এই গানে যদি মোট ১০ হাজার রিলও তৈরি হয় তবে তোকে ব্রডওয়েতে ট্রিট দেব।' এক্সপেকটেশন ছাপিয়ে রোহিতের গানে ৮ লক্ষের বেশি শর্ট ফর্ম্যাট কনটেন্ট হয়েছে। স্ট্রিমিং হয়েছে ৮০ লক্ষের বেশি।
রোহিত জানান, গানটির কথা লেখা, কম্পোজিশন এবং কণ্ঠ, সবটাই তাঁর নিজের। তবে এর অ্যারেঞ্জমেন্ট, ইনস্ট্রুমেন্টেশন, মিক্সিং এবং মাস্টারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন জাকির উদ্দিন খান। গানটির নামকরণের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে তাঁর মায়ের। আর এই পুরো গানটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রেমিকাকে।
তবে এই তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পথটা মোটে সহজ ছিল না। গত ৪ বছর ধরে নিয়মিত মিউজিক পাবলিশ করে চলেছেন তিনি। কিন্তু সেভাবে লাইমলাইটে আসতে পারেননি। রোহিত জানান, গত বছর যখন এই গানটি নিয়ে কাজ শুরু হয়, তখন তাঁকে অজস্র অপমান ও ট্রোলের শিকার হতে হয়। এমনকী চলতি বছরেও এই গানের মেলডি বা সুর চুরি বা হাইজ্যাক করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।
ঠিক যখন গানটি সবেমাত্র জনপ্রিয় হতে শুরু করে, তখনই আরিয়ান মঙ্গল বলে জনৈক ব্যক্তি সেটির উপর ইনফ্রিজমেন্ট ঠুকে দেন। ফলত গানটি স্পটিফাই থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রোহিতের আশঙ্কা ছিল, বাকি সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকেও গানটি সরে যাবে এবং তাঁর পাওয়া সমস্ত রিচ, ফলোয়ার, স্ট্রিমিং খোয়া যাবে। যদিও তেমনটা হয়নি। বরং রোহিতের এই গান শুনে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাঁর 'এম্পারার ভার্সাস শরৎচন্দ্র' সিনেমার সঙ্গে এটির একটি কোলাব করেন। সিনেমার দুই অভিনেতা ঋক ও দিব্যাণীর সঙ্গে একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন রোহিত। ব্যাকগ্রাউন্ডে অবশ্যই বেজেছে 'হই হই হই করব বলে... দুগ্গা মা আসছে।'
সমালোচকদের প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই রোহিতের। তাঁর মতে, যারা ট্রোল করেছে বা যাদের গানটি ভালো লাগেনি, তারাও নিজের জায়গায় ঠিক। দিনের শেষে সবার মন জয় করাই তাঁর কাজ। আর যাঁরা এই গানে অঢেল ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন, সেই সমস্ত অনুরাগীদের কমেন্ট পড়তে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেও ফেলেছেন তিনি।