
ছিলেন আইটি ম্যানেজার। মাইনেও পেতেন প্রচুর। তবে শান্তির খোঁজে সেই চাকরি থেকে ইস্তফা। তারপর শুরু অটো চালানো। সম্প্রতি এমনই এক মহিলার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
এই ভিডিও থেকে জানা গেল, অটো চালক মহিলা একসময় আইটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। পরে শান্তিপূর্ণ জীবনের খোঁজে সেই পেশা ছেড়ে দেন। তিনি অটো চালানো শুরু করেন।
এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন ডা: নেজরিন মিধলাজ। তিনি জানান, অটোচালকের মধ্যে আত্মবিশ্বাস পূর্ণ ছিল। ওই মহিলার শান্ত স্বভাব তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, অটোয় যাত্রা করার সময় মিধলাজ ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি জানতে চান, পুরুষপ্রধান পেশায় কাজ করতে কেমন লাগে। পুরো কথোপকথন জুড়ে অটোচালককে হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল। নিজের জীবন এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি খোলামেলা কথা বলেন।
মিধলাজের দাবি, ওই মহিলা জানান যে তিনি প্রায় ৯ বছর আইটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে চাকরির চাপ, মানসিক স্ট্রেস থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অটো-রিকশা চালানো শুরু করেন।
মিধলাজ আরও জানান, বর্তমানে ওই মহিলা মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি এখন নিজের জীবন নিয়ে সত্যিই সুখী।
এই অভিজ্ঞতা মিধলাজের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, 'সমাজে অনেকেই পদ, প্রতিপত্তি এবং প্রচলিত সাফল্যের পিছনে ছুটতে থাকেন। কিন্তু এগুলি কী তাঁদের সত্যিই সুখী করে তোলে? সেটা ভেবে দেখেন না।'
তিনি লেখেন, 'সব সাফল্যের গল্প একরকম হয় না।' তাঁর মতে, অনেক সময় সম্মান বা মর্যাদার চেয়ে মানসিক শান্তি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু মানুষ ওই মহিলার সিদ্ধান্ত ও জীবনদর্শনের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সমাজের প্রত্যাশার চেয়ে সুখ ও মানসিক শান্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মতে, শেষ পর্যন্ত মানুষ আসলে সহজ ও কম চাপযুক্ত জীবনই চায়।
আবার কেউ কেউ তাঁদের পরিচিত এমন মানুষের উদাহরণ দিয়েছেন, যাঁরা প্রচলিত চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় গিয়েও মানসিক শান্তি পেয়েছেন। এমনকী অর্থও উপার্জন করেছেন।