Advertisement

Overview Effect: 'সবই মায়া', মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখেই বদলে যায় মানুষ, কেন কাঁদেন মহাকাশচারীরা?

কূটনীতি। রাজনীতি। জাতীয়তাবাদ। বর্ণবিদ্বেষ। এই সবই অর্থহীন-তুচ্ছ। পৃথিবী একটি নীল বলের মতো। আর সেটাই আমাদের সকলের বাসস্থান। আজ পর্যন্ত যতজন মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেছেন, প্রত্যেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসাবে, ঠিক এই মনোভাবই শেয়ার করেছেন। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত অনুভূতির নাম দিয়েছেন 'ওভারভিউ এফেক্ট'(Overview Effect)।

 আজ পর্যন্ত যতজন মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেছেন, প্রত্যেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসাবে, ঠিক এই মনোভাবই শেয়ার করেছেন।  আজ পর্যন্ত যতজন মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেছেন, প্রত্যেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসাবে, ঠিক এই মনোভাবই শেয়ার করেছেন।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 10 Apr 2026,
  • अपडेटेड 1:46 PM IST
  • অনেক মহাকাশচারীই জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তাঁদের চোখে জল এসে যায়।
  • বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত অনুভূতির নাম দিয়েছেন 'ওভারভিউ এফেক্ট'(Overview Effect)।
  • মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে, সেই মুহূর্ত থেকে মানুষের ভাবনা-চিন্তার ধরনটাই পাল্টে যায়।

Overview Effect: কূটনীতি। রাজনীতি। জাতীয়তাবাদ। বর্ণবিদ্বেষ। এই সবই অর্থহীন-তুচ্ছ। পৃথিবী একটি নীল বলের মতো। আর সেটাই আমাদের সকলের বাসস্থান। আজ পর্যন্ত যতজন মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেছেন, প্রত্যেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসাবে, ঠিক এই মনোভাবই শেয়ার করেছেন। আসলে, মহাকাশে গিয়ে পৃথিবীকে দূর থেকে দেখা। এই একটি অভিজ্ঞতাই মানুষের চরিত্রকে একেবারে বদলে দেয়। অনেক মহাকাশচারীই জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তাঁদের চোখে জল এসে যায়। আবার কেউ দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকেন। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত অনুভূতির নাম দিয়েছেন 'ওভারভিউ এফেক্ট'(Overview Effect)। সহজ ভাষায়, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে, সেই মুহূর্ত থেকে মানুষের ভাবনা-চিন্তার ধরনটাই পাল্টে যায়।

নাসার মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেছিলেন, মহাকাশযানের ভিতরে থাকলে কখনও কখনও মনে হয় সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু জানালার বাইরে তাকালেই বাস্তবটা যেন মনে পড়ে যায়। তখনই বোঝা যায়, আপনি আসলে পৃথিবী থেকে কত দূরে। চাঁদের কাছ থেকে পৃথিবীকে ছোট্ট এক নীল বলের মতো দেখতে লাগে। সেখানে কোনও দেশ নেই, কোনও সীমানা নেই, নেই মানুষের তৈরি বিভাজন।

এই দৃশ্যই মানুষের মনের ভিতরে বড় পরিবর্তন আনে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন মানুষ এত বিশাল ও অজানা কিছু দেখে, তখন মস্তিষ্কে এক বিশেষ প্রতিক্রিয়া হয়। আমাদের ব্রেনের একটি অংশটি সবসময় নিজের কথা, নিজের সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। বড়, অসম্ভব কিছু দেখলে সেটি কিছু সময়ের জন্য শান্ত হয়ে যায়। তার বদলে তৈরি হয় এক নতুন অনুভূতি। আর তখন মানুষ নিজেকে অনেক ছোট মনে করে। গোটা পৃথিবীকে আলাদা আলাদা দেশের পরিবর্তে, একসঙ্গে, একটি গ্লোব হিসেবে দেখতে শেখে।

এটি কিন্তু কোনও সাময়িক আবেগ নয়। এই নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের গভীর বিস্ময় মানুষের চিন্তাভাবনায় স্থায়ী পরিবর্তন আনে। মহাকাশচারীরা ফিরে এসে আগের মতো থাকেন না। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। ছোটখাটো সমস্যা আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না।

Advertisement

অ্যাপোলো মিশনের মহাকাশচারী এডগার মিচেল বলেছিলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি খুব তুচ্ছ মনে হয়। সব মানুষ আসলে এক, এই উপলব্ধিটাই মাথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একইভাবে মহাকাশচারী রন গ্যারানও পৃথিবীকে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর মতে, এই গ্রহটিকে রক্ষা করাই আমাদের সবার দায়িত্ব।

যত দূর থেকে পৃথিবীকে দেখা যায়, এই অনুভূতি ততই বেশি গভীর হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবী তাও অনেক বড় এবং কাছের মনে হয়। কিন্তু চাঁদের কাছ থেকে দেখলে সেটি আরও অনেক ছোট মনে হয়।  

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, এই পরিবর্তন সাময়িক নয়। মহাকাশচারীদের জীবনে এটি স্থায়ী প্রভাব ফেলে। তাঁরা অনেক বেশি শান্ত হয়ে ওঠেন। অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং পৃথিবীর জন্য কিছু করতে চান।

মহাকাশচারীরা একটি বড় সত্য বুঝতে পারেন। আমরা সবাই একই গ্রহের মানুষ। আমাদের মধ্যে বিভেদ যতই থাকুক, এই পৃথিবীই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। আর সেই উপলব্ধি থেকেই অনেকে বুঝে যান, 'সবই মায়া'!

Read more!
Advertisement
Advertisement