
EVM history: ভোটের সময় ইভিএম নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা, প্রশ্ন; সবই চলে সমানতালে। কিন্তু একটি সহজ প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানেন না। ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন প্রথম কোন দেশে চালু হয়েছিল? বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, ভারতই এই প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহারকারী। বাস্তবে কিন্তু ছবিটা একটু আলাদা। ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা প্রথম আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States of America)। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে সেখানে পাঞ্চ কার্ড এবং প্রাইমারি ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়। যদিও সেই সময়কার প্রযুক্তি আজকের ইভিএমের মতো উন্নত বা নিরাপদ ছিল না, তবুও সেটাই ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের সূচনা পর্ব। ধীরে ধীরে সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে।
ভারতে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয় অনেক পরে। ১৯৮২ সালে কেরালা-র পারুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেই সময় এটি সীমিত পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটায় এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেও ইভিএমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বহু বছর পরীক্ষানিরীক্ষার পর ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে সারা দেশে সম্পূর্ণভাবে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
ভারতের ইভিএম ব্যবস্থাকে আলাদা করে তোলে তার গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই মেশিনগুলি সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন, অর্থাৎ ইন্টারনেটের সঙ্গে কোনও সংযোগ থাকে না। ফলে বাইরের হ্যাকিং বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই দাবি করা হয়। পরে ভোটারদের আস্থা বাড়াতে VVPAT বা ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল যুক্ত করা হয়েছে। এতে ভোট দেওয়ার পর একটি কাগজে ভোটের প্রতিফলন দেখা যায়, যা স্বচ্ছতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা বিদেশে শুরু হলেও, বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সফলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম উদাহরণ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোটি কোটি ভোটারকে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রযুক্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইভিএমের জন্ম বিদেশে হলেও, তার সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংগঠিত ব্যবহার হয়েছে ভারতে। তাই ইভিএম নিয়ে আলোচনা যতই চলুক, এর ইতিহাস জানলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়; আর সেই ইতিহাস জানেন না, এমন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়।