
মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির প্রেক্ষাপটে অনেকেই মারণ বোম নিয়ে আলোচনা করছেন। আসছে পরমাণু বোমার প্রসঙ্গও। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম পরমাণু বোমা (Nuclear Bomb)। কিন্তু এই ভয়াবহ অস্ত্র প্রথম কোন দেশ তৈরি করেছিল? অনেকেরই এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। ইতিহাস বলছে, বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা তৈরি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) সময় এই বোমা তৈরির কাজ শুরু হয়। ১৯৩৯ সালে ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছিলেন, নাৎসি জার্মানি (Nazi Germany) যদি আগে এই অস্ত্র তৈরি করে ফেলে, তা হলে বিশ্ব বিপদের মুখে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই শুরু হয় এক গোপন প্রকল্প, ‘ম্যানহাটন প্রোজেক্ট’ (Manhattan Project)।
ম্যানহাটন প্রোজেক্ট
ম্যানহাটন প্রোজেক্ট ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। এই প্রকল্পে হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষক যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জে. রবার্ট ওপেনহাইমার, যাঁকে ‘পরমাণু বোমার জনক’ বলা হয়।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা। দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই প্রথম সফল পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটে। এই পরীক্ষার নাম ছিল ‘ট্রিনিটি টেস্ট’ (Trinity Test)।
হিরোশিমা ও নাগাসাকি
এর পরেই বিশ্ব ইতিহাসে ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনা। ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের দুটি শহর; হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলে।
এই হামলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিকিরণের (Radiation) প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শহর দু’টি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনাকে আজও মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির একটি হিসেবে ধরা হয়।
কেন তৈরি হয়েছিল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো যেত।
পরমাণু বোমা শুধু যুদ্ধ জেতার অস্ত্র নয়, এটি মানব সভ্যতার জন্য এক বড় হুমকি। আজও বিশ্বের বহু দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে (Global Politics) এই অস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। তাই শান্তি বজায় রাখাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।