
ভোট দিতে গিয়ে আঙুলে যে কালি লাগানো হয়, সেটি সহজে ওঠে না। এই অভিজ্ঞতা আঠেরোর উর্ধ্বে প্রায় সবারই আছে। অনেকেই বারবার সাবান, ডিটারজেন্ট বা ঘষে তোলার চেষ্টা করেন। তবুও সেই দাগ কয়েকদিন থেকে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন এই কালি এত জেদি? এর পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান।
ভোটের সময় যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাকে বলা হয় ‘ইনডেলিবল ইঙ্ক’। অর্থাৎ এমন কালি, যা সহজে মুছে ফেলা যায় না। এই কালি তৈরি করা হয় বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে। এর মূল উপাদান সিলভার নাইট্রেট। এই রাসায়নিকটি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে স্থায়ী দাগ তৈরি করে। ফলে শুধু উপরের স্তর পরিষ্কার করলেই কালি উঠে যায় না।
আসলে কালি শুধু ত্বকের উপরেই থাকে না, ত্বকের গভীর স্তরেও ঢুকে পড়ে। আমাদের ত্বকের উপরের স্তর বা এপিডার্মিস ধীরে ধীরে ঝরে যায়। সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কয়েকদিন পর কালি মিলিয়ে যায়। তাই যতই ঘষা হোক, তাৎক্ষণিকভাবে এই দাগ তোলা সম্ভব হয় না।
এই বিশেষ কালি তৈরির মূল উদ্দেশ্য একটাই; একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। অর্থাৎ ভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। একবার আঙুলে কালি লাগানো হলে সেটি দেখে সহজেই বোঝা যায়, ওই ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন। ফলে জাল ভোট বা পুনরায় ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
ভারতে এই কালি প্রস্তুত করে সরকারি সংস্থা Mysore Paints and Varnish Limited। স্বাধীনতার পর থেকেই এই সংস্থাই নির্বাচন কমিশনের জন্য কালি তৈরি করে আসছে। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের একাধিক দেশেও এই কালি রপ্তানি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কালি শুধু নিরাপত্তা নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, ভোটে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এমন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এই সাধারণ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
সব মিলিয়ে, ভোটের কালি না ওঠার পিছনে কোনও রহস্য নয়, রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা। আর সেই কারণেই ভোট দেওয়ার পর আঙুলের দাগ কয়েকদিন পর্যন্ত থেকেই যায়; যা আসলে গণতন্ত্রের সুরক্ষার এক নিঃশব্দ প্রহরী।