Advertisement

Balurghat Rehab Center Death New: নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, রণক্ষেত্র বালুরঘাট

Balurghat Rehab Center Death New: মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিজনরা। শুক্রবার বিকেলে ক্ষুব্ধ জনতা ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ইটের ঘায়ে তছনছ হয়ে যায় কাঁচের জানালা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র। চোখের সামনে তাণ্ডব দেখে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা অন্য আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • বালুরঘাট (দক্ষিণ দিনাজপুর),
  • 01 May 2026,
  • अपडेटेड 10:31 PM IST

Balurghat Rehab Center Death New: নেশার অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফেরাই হলো শেষ ফেরা। বালুরঘাটের একটি বেসরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর। পিটিয়ে মারার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হলো পুলিশকে।

মৃত যুবকের নাম ইসরাফুল হক (২৬)। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার বাসিন্দা ওই যুবককে নিয়ে বুকভরা আশা ছিল পরিবারের। গত ২৭ এপ্রিল তাঁকে বালুরঘাটের এই বেসরকারি কেন্দ্রটিতে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরিজনদের আশা ছিল, কয়েকটা দিন এখানে কাটালে সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ঘরে ফিরবে বাড়ির ছেলে। কিন্তু শুক্রবার সকালেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তরফে ফোন করে জানানো হয়, ইসরাফুল অসুস্থ। তাঁকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু পরে দাবি করা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। খবর পাওয়া মাত্রই চোপড়া থেকে পরিজনরা বালুরঘাটে ছুটে আসেন। হাসপাতালে পৌঁছেই চমকে ওঠে পরিবার। অভিযোগ, ইসরাফুলের দেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার পিছনে গুরুতর চোটের দাগ থেকে শুরু করে কান দিয়ে গড়িয়ে পড়া জমাট রক্ত, সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে নৃশংসতার। পরিবারের সাফ দাবি, একে কোনোভাবেই হার্ট অ্যাটাক বলা যায় না; পিটিয়েই খুন করা হয়েছে ইসরাফুলকে।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিজনরা। শুক্রবার বিকেলে ক্ষুব্ধ জনতা ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ইটের ঘায়ে তছনছ হয়ে যায় কাঁচের জানালা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র। চোখের সামনে তাণ্ডব দেখে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা অন্য আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে এবং প্রাণভয়ে কেন্দ্রের অনেক আবাসিক সেই সুযোগে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে খবর। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠি উঁচিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় কোনোমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Advertisement

পুলিশ ইতিমধ্যেই ইসরাফুলের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। তবে খুনের দাবিতে অনড় পরিবার ইতিমধ্যেই বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়ে। সুস্থ করতে পাঠানোর নামে কি তবে আড়ালে চলছে নির্যাতন? দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলে সরব হয়েছে চোপড়া ও বালুরঘাটের মানুষ। থমথমে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement