Advertisement

ধূপগুড়িতে দুটি বাইসনের হানায় শিশুসহ ৩ জখম, ঘুমপাড়ানি গুলিতেও কাবু করতে গলদঘর্ম বন দফতর

শনিবার ভোরবেলা ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে আচমকাই হাজির হয় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা দুটি জোয়ান বাইসন। এর মধ্যে একটি বাইসন বেগতিক দেখে গান্ডি এলাকার দিকে চম্পট দিলেও, অন্যটি ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে ঢুকে পড়ে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। এই খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে বাইসন দেখতে ভিড় জমান।

ধূপগুড়িতে দুটি বাইসনের হানায় শিশুসহ ৩ জখম (ফাইল ছবি)ধূপগুড়িতে দুটি বাইসনের হানায় শিশুসহ ৩ জখম (ফাইল ছবি)
Aajtak Bangla
  • ধূপগুড়ি (জলপাইগুড়ি),
  • 24 May 2026,
  • अपडेटेड 7:14 PM IST

শনিবার সাতসকালে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকে বন্যপ্রাণের কামড়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা এলাকা। জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া দুটি দলছুট বাইসনের তাণ্ডবে দিনভর চরম আতঙ্ক ছড়াল মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে। হিংস্র পশুর শিংয়ের গুঁতোয় রক্তাক্ত হলেন এক শিশুসহ তিন জন গ্রামবাসী। আহতদের প্রথমে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় তাঁদের জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বন দপ্তরের সূত্রের খবর, জখমদের নাম গোপাল ঘোষ (৬৫), সুনীল রায় (৪৫) এবং খুদে জয়দীপ সরকার (৬)।

শনিবার ভোরবেলা ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে আচমকাই হাজির হয় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা দুটি জোয়ান বাইসন। এর মধ্যে একটি বাইসন বেগতিক দেখে গান্ডি এলাকার দিকে চম্পট দিলেও, অন্যটি ঝাড়মাগুরমারি গ্রামে ঢুকে পড়ে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। এই খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে বাইসন দেখতে ভিড় জমান। কৌতূহলী জনতার সেই চিৎকারে হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুটি বুনো জন্তু দুদিকে চলে যাওয়ায় তাদের বাগে আনতে কার্যত কালঘাম ছোটে বনকর্মীদের। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি খবর পাঠানো হয় বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াড, মড়াঘাট রেঞ্জ এবং গদেয়ারকুটি বিট অফিসে।

ঘটনার খবর পেয়েই এসএসবি (SSB) জওয়ান এবং ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দফতরের আধিকারিকরা। প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর উত্তেজিত বাইসনটিকে লক্ষ্য করে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোঁড়েন বনকর্মীরা। কিন্তু খাঁচাবন্দি করার সেই চেষ্টা সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়। ঘুমপাড়ানি গুলি লাগার পরেও সেটি বেহুঁশ না হয়ে উল্টে আরও মারমুখী হয়ে ওঠে এবং গোটা গ্রাম জুড়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাইসনটিকে পুরোপুরি কাবু বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই এক অদ্ভুত কাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন গ্রামবাসীরা। বাইসনের এই মরণকামড় ও উন্মত্ততার মাঝেই নিজেদের এলাকা বাঁচাতে একটি পোষা গরুও ওই হিংস্র বাইসনের ওপর পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলা চালায়। বর্তমানে গোটা এলাকায় সশস্ত্র পুলিশ ও বনকর্মীরা মোতায়েন থাকলেও, এখনও থমথমে ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে ধূপগুড়ির ওই জনপদে।

Advertisement

 

Read more!
Advertisement
Advertisement