
Rabindranath Ghosh Son Pankaj Ghosh: নির্বাচনের ফল বের হতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। কোচবিহারে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর এবার প্রকাশ্যে চলে এল দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সৌজন্যে, তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পুত্র পঙ্কজ ঘোষ। কোচবিহারের দেশবন্ধু মার্কেটে অবস্থিত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা কার্যালয় ‘শ্রমিক ভবন’ দখলকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বর্তমানে ওই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে কোতোয়ালি থানা।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাজেন্দ্র বৈদের অভিযোগ, পঙ্কজ ঘোষ হঠাৎ তাঁর দোকানে গিয়ে চাবি দাবি করেন। রাজেন্দ্রবাবু তখন দোকানে ছিলেন না। ফোনে কথা হলে তিনি পঙ্কজকে শনিবার সকালে আসতে বলেন। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য কথা বলছে। রাজেন্দ্রবাবুর দাবি, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ ছাড়া তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করায় পঙ্কজ দলবল নিয়ে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানানো হলে পুলিশ এসে সকলকে বের করে দিয়ে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
রবীন্দ্রনাথ-পুত্রের এই আচরণে ক্ষুব্ধ রাজেন্দ্র বৈদ। তাঁর দাবি, পঙ্কজ তাঁকে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওই অফিসটি তাঁর ‘বাবার সম্পত্তি’। অন্যদিকে, ভোটের আগে থেকেই পঙ্কজের ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরে গুঞ্জন ছিল। এমনকি বিজেপির প্রার্থীর মায়ের সমর্থনে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন খোদ রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর যুক্তি, ওই কার্যালয়ের জমিটি তাঁর নিজের নামে এবং তিনি সহ দলের কয়েকজন পুরনো নেতা মিলেই ভবনটি তৈরি করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথবাবুর পাল্টা তোপ, রাজেন্দ্র বৈদ মাঝেমধ্যে কার্যালয়ে বসে দলবিরোধী কথা বলেন। ফলে অফিসটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজেই ইদানীং দলের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেখানে রাজেন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে তিনি নতুন বির্তক উসকে দিলেন। এই গৃহযুদ্ধ নিয়ে জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে লোকসভা ভোটে কোচবিহারে তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই কোন্দল যে দলকে আরও অস্বস্তিতে ফেলল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।