
Coochbehar TMC Councillor Arrest: ভোটের উত্তাপ মিটলেও রাজনৈতিক পারদ যেন কিছুতেই নামছে না কোচবিহারে। এবার খোদ বিধানসভার স্পিকার তথা বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক তৃণমূল কাউন্সিলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার শহরের এসপি ইউনিট এলাকায়। ধৃতের নাম উজ্জ্বল তর। তিনি কোচবিহার পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলার হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচনের ঠিক আগের দিন। ওইদিন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী এবং বর্তমান বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু ২ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর দলের এক অসুস্থ কর্মী ঝুমা বিশ্বাসের বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে বিজেপি প্রার্থী পৌঁছতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৃণমূল কাউন্সিলার উজ্জ্বল তরের নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক রথীন্দ্রবাবুকে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জোড়াফুল শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, ভোটের আগের দিন এলাকায় এসে ভোটারদের প্রভাবিত করতে দেদার টাকা ছড়াচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী। এই নিয়ে দু’পক্ষের বচসা চরম রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত কার্যত তাড়া করে রথীন্দ্র বসুকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরেই ময়দানে নামেন বিজেপি প্রার্থী। সেই রাতেই তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। এরপর জল গড়ায় আরও দূর। গতকাল ঝুমা বিশ্বাস নিজেই কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় এসে তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে নিগ্রহ ও হুমকির মামলা ঠুকে দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার পুলিশ অতর্কিতে হানা দেয় উজ্জ্বল তরের এসপি ইউনিটের বাড়িতে। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও এই গ্রেপ্তারির পদ্ধতি নিয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলারের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ কোনওরকম আগাম নোটিশ বা পূর্বসতর্কতা ছাড়াই গায়ের জোরে বাড়ির ভেতর ঢুকে উজ্জ্বলবাবুকে তুলে নিয়ে গেছে। এদিকে ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই এমন হাইপ্রোফাইল গ্রেপ্তারি ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে উত্তরবঙ্গের এই জেলায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনও বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।