Advertisement

Malda Food Delivery Girl Suicide Case: মালদায় আত্মঘাতী ফুড ডেলিভারি গার্ল, কাজের চাপে চরম সিদ্ধান্ত তরুণীর?

পরিবার সূত্রে খবর, পূজা অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। কলেজ শেষ করে বেকার বসে না থেকে বেছে নিয়েছিলেন ফুড ডেলিভারির কাজ। দু’পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায় রোদ-ঝড় মাথায় নিয়ে ছুটতেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই তিনি যেন কেমন কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। শরীরও দিচ্ছিল না সাথ।

Malda Food Delivery Girl Suicide Case: মালদায় আত্মঘাতী ফুড ডেলিভারি গার্ল, কাজের চাপে চরম সিদ্ধান্ত তরুণীর?Malda Food Delivery Girl Suicide Case: মালদায় আত্মঘাতী ফুড ডেলিভারি গার্ল, কাজের চাপে চরম সিদ্ধান্ত তরুণীর?
Aajtak Bangla
  • মালদা,
  • 24 Apr 2026,
  • अपडेटेड 10:14 PM IST

Malda Food Delivery Girl Suicide Case: ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা। সংসারের জোয়াল টানতে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ফুড ডেলিভারির ব্যাগ। লোন নিয়ে কেনা স্কুটিতে চড়ে দিনরাত এক করে খাবার পৌঁছে দিতেন মানুষের দুয়ারে। কিন্তু সেই দৌড় থামল এক চরম ট্র্যাজেডিতে। বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিপল্লির বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ২৪ বছরের তরুণী পূজা পালের ঝুলন্ত দেহ। শোকের ছায়া এলাকায়।

পরিবার সূত্রে খবর, পূজা অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। কলেজ শেষ করে বেকার বসে না থেকে বেছে নিয়েছিলেন ফুড ডেলিভারির কাজ। দু’পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায় রোদ-ঝড় মাথায় নিয়ে ছুটতেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই তিনি যেন কেমন কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। শরীরও দিচ্ছিল না সাথ। বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়েই চমকে ওঠেন পরিজনরা।

বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে পূজার নিথর শরীর। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। লোন নিয়ে কেনা স্কুটিটা এখন উঠোনে পড়ে থাকলেও, তা চালানোর মানুষটি চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। শোকাতুর দাদার দাবি, বোনের এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী অনলাইন অ্যাপের অমানবিক কাজের চাপ।

মৃতার দাদা চন্দন পাল সাফ জানিয়েছেন, খাবার পৌঁছে দিতে সামান্য দেরি হলেই গ্রাহকদের কটু কথা শুনতে হতো বোনকে। সেই সঙ্গে ছিল কোম্পানির ডেলিভারি টাইম ও রেটিং বজায় রাখার চরম মানসিক চাপ। এই অপমান আর টার্গেটের চাপে পূজা কি তবে অবসাদের শিকার হয়েছিলেন? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার এলাকায় গিয়ে শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদার। তিনি বলেন, “মেয়েটি খুব লড়াকু ছিল। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।” পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত। তবে এর পিছনে অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই মালদা থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। শুক্রবার সকালেই পুলিশ আধিকারিকরা পূজার ঘর তল্লাশি করেছেন। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি এখন পুলিশের বড় ভরসা। কল লিস্ট এবং চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডেলিভারি অ্যাপগুলোর অ্যালগরিদম ও সময়সীমার লড়াই তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। পূজার মৃত্যু কি তবে সেই ব্যবস্থারই এক করুণ বলি? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement