
Krishnendu Chowdhury Greets Suvendu Adhikary: পঁচিশে বৈশাখের সকালে রাজভবনের সবুজ লনে যখন বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের মালদা থেকে ভেসে এল এক চমকপ্রদ শুভেচ্ছা বার্তা। রাজনীতির রং ভুলে দীর্ঘদিনের পরিচিত শুভেন্দুকে কুর্নিশ জানালেন ইংরেজবাজার পুরসভার দাপুটে তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। কেবল মৌখিক শুভেচ্ছা নয়, পুরসভার পক্ষ থেকে রীতিমতো রেজোলিউশন পাশ করে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। যা দেখে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এ কি স্রেফ সৌজন্য, নাকি দলবদলের আগাম সঙ্কেত?
শুভেন্দুর উত্থানে খুশি কৃষ্ণেন্দু এদিন স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, খুব অল্প বয়সেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু। ওকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ওর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে আমরা রাজনীতি করেছি। এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু যখন তৃণমূলের মালদা জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেই সময়ের কাজের প্রশংসা শোনা গেল তাঁর মুখে। কৃষ্ণেন্দুর আশা, শুভেন্দুর নেতৃত্বে বাংলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অভিষেকের প্রতি ক্ষোভ, শুভেন্দুর প্রতি আস্থা
কিন্তু এই শুভেচ্ছার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত কয়েকদিন ধরেই দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছিলেন কৃষ্ণেন্দু। “অভিষেক দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন”— এই বিস্ফোরক মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে খোলাখুলি সমর্থন জানানোয় জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দলেই কোণঠাসা হয়ে পড়া কৃষ্ণেন্দু কি এবার তলে তলে পদ্ম শিবিরের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছেন?
ভাঙনের মুখে মালদা?
মালদার রাজনীতিতে কৃষ্ণেন্দুর প্রভাব অনস্বীকার্য। যেভাবে তিনি প্রকাশ্যে শুভেন্দুর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন, তাতে মালদা জেলা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের এই ‘পুরনো চাল’কে বিজেপি শেষ পর্যন্ত আপন করে নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির ভবিষ্যৎ। এখন দেখার, ইংরেজবাজার পুরসভার তখতে শেষ পর্যন্ত ঘাসফুল থাকে না কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে গেরুয়া আবির ওড়ে।