
North Bengal Flood Risk 2026: তরাই-ডুয়ার্সে এখনও ভালো করে গরমের দেখাই মেলেনি। প্রায় এক মাস ধরে মেঘ-বৃষ্টির একটানা খেলা চলছে উত্তরভাগ জুড়ে। সৌজন্যে, বজ্রগর্ভ মেঘ আর জলীয় বাষ্পের প্রাচুর্য। আবহাওয়া দফতরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা তো বলেই দিয়েছেন, এবার পাহাড় আর সমতলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে! জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের পাশাপাশি এবার দার্জিলিং এবং কালিম্পং পাহাড়েও আরও বেশ কিছু স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র বসানো হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে বর্ষা কবে ঢুকবে, তা মে মাসের শেষদিকে বোঝা যাবে। কিন্তু আসল চিন্তাটা অন্য জায়গায়। মেঘের এই ঘনঘটায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে উত্তরবঙ্গ। সবেমাত্র নতুন সরকার দায়িত্বে এসেছে, আর তার মুখেই হাজির আসন্ন বর্ষার ভ্রূকুটি। বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী কাজ করার মতো সময় আর হাতে নেই। সেচ দফতর সূত্রের খবর, এখন কিছু করতে গেলে সেই পুজোর পর। তাহলে এতদিন কী কাজ হল? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
আসল জটটি পেকে রয়েছে পূর্বতন বিদায়ী সরকারের জমানায়। তিস্তা, তোর্ষা, কালজানি, রায়ডাক, সংকোশ, জলঢাকা এবং মহানন্দার মতো প্রধান নদীগুলির ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণের বড় বড় কাজের রূপায়ণ এখন কার্যত পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। কারণ, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে একাধিক নদীর ওপর প্রায় ৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিআর (DPR) অনুমোদন না পেয়ে ফাইলবন্দি হয়ে আটকে রয়েছে। প্রকল্প তৈরি থাকলেও সবুজ সংকেত মেলেনি। সম্প্রতি জলপাইগুড়ির রেসকোর্সপাড়ার সেচ ভবনে উত্তরবঙ্গের প্রাক বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠকে বসেছিল সেচ দফতর। সেখানে এবং তার পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেচ দফতরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমি। আগামী ২০ মে কলকাতায় সেচ দফতরের রাজ্যের মূল প্রাক বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠক রয়েছে। সেখানে এই চরম সংকটের বিষয়টি জোরকদমে তোলা হবে এবং নতুন সরকারের কাছে জমে থাকা প্রকল্পগুলির দ্রুত অনুমোদনের আর্জি জানানো হবে।
চিফ ইঞ্জিনীরের কথায়, পূর্বতন সরকার কোনও খরচ না করে এজেন্সির মাধ্যমে টেন্ডার ডেকে তিস্তার ড্রেজিং করানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এসআইআর এবং নির্বাচনি বিধির গেরোয় সেই কাজ এক কদমও এগোয়নি। এর ফলে সেবক থেকে মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তার নদীগর্ভের প্রায় ৫২ কিলোমিটার এলাকা পলি ও বালিতে বুজে উঁচু হয়ে রয়েছে। সামনেই বর্ষা, নদীখাত অগভীর, কী যে বিপদ ঘটবে তা বলা মুশকিল! যদিও ভোট ঘোষণার আগে উত্তরবঙ্গের চার ডিভিশনের অধীনে নদীবাঁধ, রেইনকাট ও ভূমিক্ষয় মেরামতের কাজ করা হয়েছিল, কিন্তু গত দু-মাসে পাহাড় ও সমতলে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় নদীগুলোতে এখন থৈ থৈ জল। এই ভরা জলে কোনও বড় কাজ করা অসম্ভব। তাই আপাতত বন্যা মোকাবিলায় নির্মাণসামগ্রী মজুত রাখা ছাড়া কোনও বিকল্প রাস্তা দেখছে না সেচ দফতর। তবে কৃষ্ণেন্দুবাবু আশ্বস্ত করেছেন, নতুন সরকার যে কাজেরই অনুমোদন দিক না কেন, নদীর জলস্তরের পরিস্থিতি মেপে তবেই কাজে হাত দেওয়া হবে। এখন দেখার, নতুন সরকার এই ৮০ কোটির ফাইলজট কাটিয়ে উত্তরবঙ্গকে প্লাবনের হাত থেকে বাঁচাতে কতটা তৎপর হয়।