
BJP Workers Attacked In Siliguri: মাদক বিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ আক্রান্ত হলেন দুই বিজেপি কর্মী। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিকিয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত দুই বিজেপি কর্মীর নাম দিলীপ গুপ্তা ও বিনোদ সাউ। বর্তমানে তাঁরা রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় সরাসরি এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই টিকিয়াপাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় মাদকের রমরমা কারবার চলছে। এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে শুক্রবার টিকিয়াপাড়া এলাকায় বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের পক্ষ থেকে একটি মাদক বিরোধী প্রচার ও অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযোগ, সেই কর্মসূচি শেষ করে রাতে যখন দিলীপ ও বিনোদ বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁদের একা পেয়ে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রড, লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। দুজনকে বেধড়ক মারধর করা হলে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই শনিবার সকালে শিলিগুড়ি ফেরামাত্র সোজা জেলা হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুই দলীয় কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। আক্রান্তদের পরিবারের পাশে থাকার ভরসা দেওয়ার পাশাপাশি বিধায়ক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দোষী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই টিকিয়াপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে গিয়েই তাঁদের কর্মীদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে পুলিশকে খাঁচায় পুরতে হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, টিকিয়াপাড়া এবং বাগরাকোট এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই মাদকের আসর বসে বলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। শুধু ব্রাউন সুগার বা মাদকই নয়, ডেনড্রাইট, ইনজেকশন, নিষিদ্ধ ট্যাবলেট সহ নানা নেশার কারবার এবং তাকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কাজকর্ম এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পুলিশ রুটিন মাফিক দু-একটা অভিযান চালালেও, এই যুবসমাজ ধ্বংসকারী কারবার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে স্থানীয় কাউন্সিলর বা পুলিশের কোনো দীর্ঘমেয়াদী সদিচ্ছা দেখা যায়নি। তবে এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদলের পর এই স্থায়ী নরকগুলজার এবং নেশার আসর যেন চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়, এখন সেই দাবিই তুলছেন শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ।