Advertisement

Rasikbil Mini Zoo Deer Food Crisis: ২০০ হরিণ বাঁচাতে রসিকবিলে স্পেশাল বন্দোবস্ত, সংকট মেটাতে প্রোটিন-কার্ব চাষ

Rasikbil Mini Zoo Cooch Behar Deer Food Crisis: মিনি জু-র আয়ের ভাঁড়ারেও বিশেষ কুলোচ্ছে না। বিশাল এই হরিণ বাহিনীর দু’বেলা খাবারের সংস্থান করতে গিয়ে হিমশিম দশা কর্তৃপক্ষের। এই সংকট থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই কিছু হরিণকে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ওপরমহলে দরবার করেছেন জেলা বনকর্তারা। তবে তার আগে রসিকবিলেই খাবারের স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন তাঁরা।

২০০ হরিণ বাঁচাতে রসিকবিলে স্পেশাল বন্দোবস্ত, সংকট মেটাতে প্রোটিন-কার্ব চাষ২০০ হরিণ বাঁচাতে রসিকবিলে স্পেশাল বন্দোবস্ত, সংকট মেটাতে প্রোটিন-কার্ব চাষ
Aajtak Bangla
  • তুফানগঞ্জ (কোচবিহার),
  • 02 May 2026,
  • अपडेटेड 12:22 AM IST

Rasikbil Mini Zoo Cooch Behar Deer Food Crisis: রসিকবিলের রসদ ফুরিয়েছে! পর্যটন মানচিত্রে কোচবিহারের এই মণিহার এখন হরিণদের ‘খাবার লড়াই’-এর সাক্ষী। এনক্লোজারে সদস্য সংখ্যা বাড়লেও টান পড়েছে ভাঁড়ারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার হরিণকুলের মুখে পুষ্টিকর আহার তুলে দিতে অভিনব পথ নিল বন দপ্তর। রসিকবিল চত্বরেই শুরু হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির ঘাস চাষ।

তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের এই মিনি জু-তে এখন আড়াইশো হরিণের সংসার। তিন হেক্টর এলাকার ঘেরাটোপে সদস্য সংখ্যা উপচে পড়ায় দেখা দিচ্ছে তীব্র খাদ্যসংকট। আর সেই খাবারের দখল নিতেই মাঝেসাঝে বেধে যাচ্ছে গৃহযুদ্ধ। রক্তারক্তি কাণ্ড এড়াতে এবং রসদ নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন বনকর্তারা।

মিনি জু-র আয়ের ভাঁড়ারেও বিশেষ কুলোচ্ছে না। বিশাল এই হরিণ বাহিনীর দু’বেলা খাবারের সংস্থান করতে গিয়ে হিমশিম দশা কর্তৃপক্ষের। এই সংকট থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই কিছু হরিণকে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ওপরমহলে দরবার করেছেন জেলা বনকর্তারা। তবে তার আগে রসিকবিলেই খাবারের স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন তাঁরা।

মুশকিল আসান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘হাইব্রিড নেপিয়ার’ প্রজাতির ঘাসকে। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় রসিকবিলের প্রায় চার বিঘা জমিতে এই ঘাস চাষের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বন দফতরের দাবি, এই ঘাস হরিণদের স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট।

কেন এই ঘাস? এডিএফও বিজনকুমার নাথ জানাচ্ছেন, সাধারণ ঘাসের তুলনায় হাইব্রিড নেপিয়ার অনেক বেশি নরম আর রসালো। এর পাতাগুলিও বেশ চওড়া। এতে ১২-১৪ শতাংশ প্রোটিন থাকে, যা হরিণের শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তি জোগাতে অব্যর্থ। রসালো হওয়ায় হরিণরা এটি হজমও করতে পারে খুব সহজে। বর্তমানে হরিণদের এনক্লোজারে গামার, পিটালি বা হরীতকী গাছ থাকলেও তা দিয়ে খিদে মেটানো দায়। এখন মূলত শুকনো খাবার, কাঁঠাল পাতা কিংবা শাল-গামারির কচি পাতা দিয়েই পেট ভরাতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু ক্রমবর্ধমান সংখ্যাধিক্যের সামনে এই জোগান যৎসামান্য। তাই এই ঘাস চাষই এখন একমাত্র ভরসা।

Advertisement

উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই এই ঘাসের কাটিং বা কলম তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাবছর এই ঘাস লাগানো গেলেও বর্ষার মুখেই চাষের সেরা সময়। গৃহপালিত পশুপাখির অত্যন্ত প্রিয় এই নেপিয়ার ঘাস হরিণরা যে গপগপিয়ে খাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। বন দফতর আশাবাদী, চার বিঘা জমিতে এই ঘাস চাষ সফল হলে হরিণদের পুষ্টির অভাব মিটবে। মিটবে খাবারের জন্য রেষারেষিও। রাজ আমলের এই দীঘি সংলগ্ন রসিকবিলে পর্যটকরা আবার আগের মতোই স্বাস্থ্যবান হরিণদের নির্ভয়ে চরে বেড়াতে দেখবেন, এখন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন বনকর্মীরা।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement