Advertisement

Siliguri Corridor Chickens Neck National Security: মিশন 'চিকেনস নেক', নিরাপত্তার খাতিরে সেবক থেকে কালিম্পং ৭টি রাস্তা হাতে নিল কেন্দ্র

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়কের দেখভাল, সংস্কার ও সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের (PWD) হাত থেকে সরকারিভাবে চলে গেল কেন্দ্রের জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম (এনএইচআইডিসিএল) এবং জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) কাছে। নবান্নের মুখ্য সচিবের দফতর থেকে শুক্রবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরে ‘নীতিগত অনুমোদন’ দেওয়া হয়েছে।

চিকেনস নেকে বিশেষ বন্দোবস্তচিকেনস নেকে বিশেষ বন্দোবস্ত
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 19 May 2026,
  • अपडेटेड 2:53 AM IST

Siliguri Corridor Chickens Neck National Security: রাজ্যের প্রশাসনিক পালাবদল ঘটতেই উত্তরবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হলো। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর তথা 'চিকেনস নেক' (Chicken’s Neck)-কে নিশ্ছিদ্র করতে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়কের দেখভাল, সংস্কার ও সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের (PWD) হাত থেকে সরকারিভাবে চলে গেল কেন্দ্রের জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম (এনএইচআইডিসিএল) এবং জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) কাছে। নবান্নের মুখ্য সচিবের দফতর থেকে শুক্রবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরে ‘নীতিগত অনুমোদন’ দেওয়া হয়েছে।

আসলে, প্রায় বছর খানেক আগেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই সীমান্তবর্তী সড়কগুলি নিজেদের আওতায় নেওয়ার জন্য রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সাতটির মধ্যে উত্তরবঙ্গের ছ'টি রাস্তা এবং দক্ষিণবঙ্গের ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কটি ছিল। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেই চিঠি নিয়ে কার্যত নিশ্চুপ ছিল। একমাত্র ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি ছোট অংশ কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, বাকি ফাইলটি নবান্নের টেবিলে আটকে থাকায় কাজ থমকে গিয়েছিল। এই টালবাহানা নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানিয়েছিল বিজেপি। এবার রাজ্যে সরকার বদলাতেই নয়া জমানা দ্রুততার সঙ্গে সেই জট কাটিয়ে দিল। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় এই সিদ্ধান্তের ফলে সড়কগুলির বেহাল অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শিলিগুড়ি করিডরের এই ৬০ কিলোমিটার এলাকাটি ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তে ঘেরা এবং ঠিক উত্তরেই সিকিমের ওপারে ওত পেতে রয়েছে চিন। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তরপূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এই করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৭ সালের ডোকলাম সীমান্ত উত্তেজনা (ভারত-ভুটান-চীন ট্রাই-জাংশনে) এবং পাহাড়ে অনবরত ধস নামার মতো বিষয়গুলি মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এবার কাজে নামছে। এনএইচআইডিসিএল-এর এক আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, "এই রাস্তাগুলি জাতীয় সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন রাজ্য সরকার সড়কগুলি আমাদের হাতে তুলে না-দেওয়ায় রাস্তার কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এবার দ্রুত কাজ শুরু হবে।"

Advertisement

ইতিমধ্যেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সেবক থেকে কালিম্পং পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার রাস্তার সমীক্ষা শেষ হয়েছে। শিলিগুড়ির বালাসন সেতুর মুখ থেকে শুরু হওয়া এই রাস্তার শিলিগুড়ি থেকে সেবক অংশটির সংস্কারের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। শহরাঞ্চল এবং বনাঞ্চলে সড়কটিকে ‘এলিভেটেড করিডর’ (উড়ালপুল সদৃশ রাস্তা) হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাহাড়ের বেহাল জলনিকাশির কারণে বার বার ধস নামে, তাই এবার রাস্তা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পাকাপোক্ত জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। একই সঙ্গে তৈরি করা হবে ঐতিহ্যবাহী সেবক করোনেশন ব্রিজের একটি বিকল্প আধুনিক সেতু।

এছাড়া, ডুয়ার্সের গোরুমারা বনাঞ্চলের বুক চিরে যাওয়া ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কটিও আগাগোড়া সংস্কার করা হবে এবং সেখানেও বন্যপ্রাণের সুরক্ষায় এলিভেটেড করিডর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে নিগমের। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ (বিহার-বাংলা সীমান্ত থেকে গাজোল), ৩৩ (বিহার-বাংলা সীমান্ত থেকে ফারাক্কা) এবং দক্ষিণবঙ্গের ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (জঙ্গিপুর-কৃষ্ণনগর-বনগাঁ-বসিরহাট) সংস্কারের দায়িত্ব সামলাবে এনএইচএআই (NHAI)। বাকি ৪টি সড়ক, নতুন ১০ নম্বর, ৩১৭-এ (হাসিমারা-জয়গাঁ থেকে ভুটান সীমান্ত), ৭১৭ (বারাদিঘি-চ্যাংড়াবান্ধা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত) এবং শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড় থেকে দার্জিলিং শহর পর্যন্ত ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের (পুরাতন ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক) ভোল বদলে দেবে এনএইচআইডিসিএল।

ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে চিন, বাংলাদেশ ও নেপালের কৌশলগত মনোভাব ও তৎপরতা ভিন্ন। ভারতের এই সংকীর্ণ স্থলপথটির ঠিক উত্তরে অবস্থিত চীন সবসময়ই এই অঞ্চলের ওপর নজরদারি বাড়াতে সচেষ্ট। ডোকলামে রাস্তা তৈরি বা তিব্বত সীমান্তে লাল ফৌজের সামরিক পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ আসলে এই করিডরকে চাপে রাখারই কৌশল। অন্যদিকে, নেপাল ও বাংলাদেশ মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে এই করিডরকে ব্যবহার করতে আগ্রহী। নেপাল তার স্থলবেষ্টিত সীমাবদ্ধতা কাটাতে এই করিডরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরের সাথে ট্রানজিট সুবিধা চায়। বাংলাদেশও ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সাথে সরাসরি উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এই করিডরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষপাতী।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement