
Siliguri Hotel Vacate Notice Today: ভোটের কোপ পড়ল সরাসরি পর্যটন শিল্পে। মঙ্গলবার রাতে শিলিগুড়ি পুলিশের তরফে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে শহরের সমস্ত হোটেল পুরোপুরি খালি করতে হবে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নতুন অতিথি বা পর্যটককে ঘর দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে এখন কার্যত দিশেহারা কয়েক হাজার পর্যটক।
পুলিশি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আজ রাত থেকেই নতুন করে কোনও ‘চেক-ইন’ করা যাবে না। আর যারা ইতিমধ্যেই হোটেলে রয়েছেন, তাঁদের বুধবার সকালের মধ্যে পাততাড়ি গোটাতে হবে। ভোটের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত জারি থাকবে এই কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, ভোটের সময় বহিরাগতদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
শিলিগুড়ি মানেই পাহাড় কিংবা ডুয়ার্সের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ট্রেন বা ফ্লাইটের সংযোগ ধরেন। প্রশাসনের এই ‘তুঘলকি’ ফরমানে তাঁরা এখন কোথায় মাথা গুঁজবেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্টেশনে বা বিমানবন্দরে রাত কাটানো ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই। পর্যটকদের অসহায়তা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরাও।
পুলিশের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ‘গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ মানতে তাঁরা বাধ্য ঠিকই, কিন্তু পর্যটন ব্যবসার যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে তার দায় কে নেবে? দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে মাঝরাতে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়াটা অমানবিক বলেই মনে করছেন তাঁরা। ভোট উৎসবের চক্করে পর্যটন মরসুমে কেন এমন ‘ভ্যাঁক্যাল’ শুনতে হবে, তা নিয়ে এখন সরগরম শিলিগুড়ির অলিগলি।