
Swapna Barman Jalpaiguri News: বিধানসভা নির্বাচনে রাজগঞ্জ আসনে পরাজয়ের পরই সোনাজয়ী অ্যাথলিট তথা সদ্য রাজনীতিতে আসা তৃণমূল নেত্রী স্বপ্না বর্মনের কালিয়াগঞ্জের পুরনো বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে জলপাইগুড়িতে। শনিবার নিজেই স্কুটার চালিয়ে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন স্বপ্না। তবে এই অগ্নিকাণ্ডকে স্বপ্নার ‘নিজের সাজানো নাটক’ বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁরই নিজের জেঠু এবং পাড়ার প্রতিবেশীরা।
ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বপ্নার নিজের পরিবারেই। স্বপ্নার জেঠু সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আসলে স্বপ্না অন্যদের ফাঁসাতে এমনটা করে থাকতে পারে। পাড়ার কাউকে ও বা ওর বাড়ির লোক পছন্দ করে না। আমরা চাই এই মিথ্যের বিচার হোক।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি ওর নিজের জেঠু, অথচ ওর দাদা আমাকে বলেছিল, যদি স্বপ্নাকে ভোট না দাও, তাহলে ৪ তারিখের পর মজা বোঝাবো, প্রয়োজনে হাত ভেঙে দেবো।”
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বপ্নার পাড়ার প্রতিবেশীরাও। এক প্রতিবেশীর দাবি, “কাল যখন আগুন লাগে, তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই পরিস্থিতিতে ওর দুই ভাই বাড়িতে ঢুকেই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু আমরা প্রতিবেশীরা কেউ যাইনি। কারণ ওদের নাটক আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। ওরা পৌঁছানোর সাথে সাথেই দমকল চলে এল, অথচ পাশের বাড়ির লোক কিছুই জানল না!” প্রতিবেশীদের দাবি, স্বপ্না হেরে গিয়েছেন, কিন্তু ভোটের আগে পাড়ার লোকেদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ৪ তারিখের পর দেখে নেবেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা আরও বলেন, “এই স্বপ্নাই যখন সোনা জিতে গ্রামে ফিরেছিল, তখন আমরাই মিছিল করে উৎসব করেছিলাম। অথচ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও আমাদের গ্রামের ৬ টি ছেলের নামে কেস করে দিল।” ইতিমিধ্যেই প্রতিবেশীরাও এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, স্বপ্না বর্মন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্না বর্মন জানান, তিনি হেরে যাওয়ার পর থেকেই কিছু মানুষ তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। পুরো পাড়া কেন তাঁদের বিরুদ্ধে, এই প্রশ্নে আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ সোনাজয়ী অ্যাথলিট বলেন, “তাহলে সবাই মিলে আমাদের খুন করে দিক!” টাকা বা লোভের জন্য রাজনীতিতে আসার তত্ত্ব খারিজ করে স্বপ্নার পাল্টা দাবি, “আমি নুন-ভাত খাওয়া মেয়ে, খুব অল্প টাকায় সংসার চালাতে পারি। মানুষের সেবা করতেই রাজনীতিতে এসেছি।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে হারার পর এলাকাবাসীরা চাপ দিচ্ছে যাতে তাঁর মা ও দুই দাদা ক্ষমা চান এবং আগের করা সমস্ত এফআইআর (FIR) তুলে নেওয়া হয়, তবেই তাঁরা গ্রামে থাকতে পারবেন।
পাঁচ বছর আগে স্বপ্না বর্মন একটি নতুন বাড়ি তৈরি করে সপরিবারে সেখানে চলে যান। এই পুরনো বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। মাঝে মাঝে তাঁর ভাই এই বাড়িতে থাকতেন। স্বপ্নার অভিযোগ, কেউ একজন তাঁর ভাইকে এসে বলে যে তাঁদের পুরনো বাড়িতে আগুন লেগেছে, তাই যেন তিনি সেখানে যান। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, স্বপ্নার ভাই সেই দুষ্কৃতীদের চিনতে পারেননি। সেটি একটি পরিত্যক্ত ঘর ছিল যেখানে রান্নার কাঠ এবং কিছু বইপত্র ও কাগজ পড়ে ছিল। দমকল আসার আগেই স্বপ্নার ভাই কুয়ো থেকে জল তুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের দাবি, যে আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না।
প্রশাসন অবশ্য এই ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি কোনো দুর্ভাগ্যজনক নাশকতা, সে বিষয়ে এখনও অন্ধকারে রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক রং নেই। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলছে। তবে স্বপ্না বর্মন প্রকাশ্যেই বলছেন, "আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভুল করেছি। আমি যদি নির্বাচনে না দাঁড়াতাম, তবে কেউ আমার বাড়িতে আগুন দিত না।" উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই স্বপ্না বর্মন তৃণমূলে যোগ দেন এবং রাজগঞ্জ আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আজকে বিজেপির গুণ্ডারা স্বপ্নার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। একটু ভাবুন! যে অ্যাথলিট দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন, আজ তাঁকে হিংসা, ভয় আর হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কেবল এই কারণে যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।” বিজেপি-কে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেকের প্রশ্ন, “বিজেপির নজরদারিতে এটাই কি আজকের কঠিন বাস্তবতা? এই ‘পরিবর্তন’-এর কথাই কি ওরা দিয়েছিল? বিজেপি সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।”