
Alipurduar Housewife Murder Case: বৃষ্টির রাতে ফাঁকা ঘরে ঢুকে এক বধূকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বীরপাড়া আইটিআই সংলগ্ন এলাকায়। বারুইপুর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃতার পরনের রাতের পোশাক ছিল বিধ্বস্ত অবস্থায় এবং তাঁর গলায় কালশিটে ও ঠোঁটের চামড়া অনেকটাই উঠে গিয়েছিল। শুধু তাই নয় শরীরে একাধিক কামড়ের চিহ্ন, এক হাতের তালুতে আঁচড় ও সূচ দিয়ে তৈরি ক্ষতও মিলেছে। পরিবারের লোকেদের স্পষ্ট দাবি, ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ার কারণেই শনিবার রাতে ওই বধূকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বধূর সাত বছরের শিশুকন্যাকেও বালিশ চাপা দেওয়া জখম অবস্থায় উদ্ধার করেছে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সুযোগেই ফাঁকা ঘরে কেউ চড়াও হয় বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সেই সময় ওই বধূর মেয়ে বাইরে গিয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন বধূর ওপর অত্যাচার চালাচ্ছিল ঠিক তখনই শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। তখনই তার গলাও চেপে ধরে চিৎকার আটকাতে তাকে একাধিক বালিশ ও কম্বল দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পেশায় টোটোচালক ওই বধূর স্বামী গত দুই সপ্তাহ ধরে ভিনরাজ্যে কর্মরত আছেন। তাঁদের এক আত্মীয় টোটোচালক সন্ধ্যার পর সেই টোটো জমা দিতে ওই বাড়িতে যান। কিন্তু ঘরের আলো বন্ধ দেখে এবং কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে ঘরের ভেতর ঢোকেন। সেখানে যেতেই বধূর নিথর দেহ এবং বিছানায় শিশুটিকে বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পর শিশুটি এতটাই আতঙ্কিত ছিল যে সে কথা বলার অবস্থায় ছিল না। আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে দেহটি উদ্ধার করে। আলিপুরদুয়ার থানার আইসি অনির্বাণ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
ঘটনার তদন্তে নেমে রবিবার পুলিশের পদস্থ কর্তারা ওই বাড়িতে যান। এদিকে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর রবিবার মুখ খোলে ওই শিশুকন্যা। সে তদন্তকারীদের জানায় যে ঘরের ভেতরে মুখে গামছা বাঁধা অবস্থায় একজন লম্বা চওড়া মানুষকে সে দেখেছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিচিত হওয়ার কারণেই ওই শিশুকন্যা প্রথমে চিৎকার করেনি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই শিশুর বয়ানের ভিত্তিতেই পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। যদিও আটক ব্যক্তিই মূল অপরাধী কি না সে বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকরা এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। নিহত বধূর দাদার অভিযোগ যে বোনকে সাপে কামড়েছে বলে এক প্রতিবেশীর কাছে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। সেখানে ঘরের ভেতরে ধস্তাধস্তির স্পষ্ট প্রমাণ ছিল এবং বোনকে মৃত অবস্থায় দেখেন। তাঁর ধারণা বোনকে ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা পেয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে এবং ভাগ্নিকেও জখম করা হয়েছে।