Advertisement

Bishnu Prasad Sharma joins TMC: বিষ্ণুর আগমনে পাহাড়ে শরিকের সঙ্গে দূরত্ব তৃণমূলের? নয়া সমীকরণ বুঝুন

Bishnu Prasad Sharma joins TMC: গত দু’বছর ধরেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার। পৃথক গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে দলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। বিধানসভায় বিক্ষোভ, এমনকি দলের ঘর এড়িয়ে চলা, সব মিলিয়ে সম্পর্ক ছিল তলানিতে।

BJP বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাBJP বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা
Aajtak Bangla
  • কার্শিয়ং,
  • 20 Feb 2026,
  • अपडेटेड 4:40 PM IST

Bishnu Prasad Sharma joins TMC: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিয়ে কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা (Bishnu Prasad Sharma) যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। বৃহস্পতিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলে নাম লেখান তিনি। আর এই দলবদল ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দার্জিলিং পাহাড়ে।

যদিও পাহাড়ের বিজেপি নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা কটাক্ষ করে বলেন, “উনি তো আগেই তৃণমূলের মুখপাত্রের মতো কাজ করছিলেন। ওঁর যাওয়ায় পাহাড়ে কোনও প্রভাব পড়বে না।” জেলা সভাপতি কল্যাণ দেওয়ানও দাবি করেছেন, বিধায়ক হিসেবেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হয়ে বিস্তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নোটার থেকেও কম ভোট পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি শিবিরে তাঁকে ‘বিক্ষুব্ধ মুখ’ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ের তৃণমূলের সঙ্গী জিটিএ পরিচালনা করা বিজিপিএম (Bharatiya Gorkha Prajatantrik Morcha)-র বক্তব্যে অবশ্য পাহাড়ে বিষ্ণুপ্রসাদকে গুরুত্ব না দেওয়ার বার্তায় আলাদা মাত্রা তৈরি হয়েছে। বিজিপিএমের মুখপাত্র শক্তি প্রসাদ শর্মা বলেন, বিষ্ণুপ্রসাদের দলবদল বিজেপি বিরোধী প্রচারে কাজে লাগতে পারে, তবে কার্শিয়াং আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সমতলে তাঁকে ব্যবহার করতে পারে তৃণমূল। ফলে তাঁকে পাহাড়ে প্রচারে গ্রহণ করলেও বিজিপিএম যে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করবে না তা পরিষ্কার।

আরও পড়ুন

কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ বছর দুয়েক ধরেই বিক্ষুব্ধ।পৃথক গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে দলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। বিধানসভায় বিক্ষোভ, এমনকি দলের ঘর এড়িয়ে চলা, সব মিলিয়ে সম্পর্ক ছিল তলানিতে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, “গোর্খা ভাইবোনদের জন্য কাজ করতে পারিনি। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কিছু করেনি।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন মডেলের অধীনে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

একাধিক বার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে রাজু বিস্তাকে ফের প্রার্থী করার প্রতিবাদে নির্দল হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দলের সঙ্গে তার পর থেকেই দূরত্ব বাড়ছিল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেবল তাঁর যোগাযোগ ছিল। মাঝে বিষ্ণুপ্রসাদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন শুভেন্দু। বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘দলের প্রতি ওঁর হয়তো অভিমান হয়েছে। কিন্তু উনি তৃণমূলে যাবেন না।’’ বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপ্রসাদ তৃণমূলেই যোগ দিলেন।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাহাড়ে তৃণমূলের সংগঠন শক্ত করতে এবং বিজেপির ভিত নড়বড়ে করতে বিষ্ণুপ্রসাদের উপস্থিতি কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে গোর্খাল্যান্ড প্রশ্নে তাঁর অবস্থান শাসকদলের পক্ষে নতুন বার্তা দিতে পারে। তবে বিজেপির দাবি, এই দলবদল ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলবে না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ে সমীকরণ কতটা বদলায়, এখন সেদিকেই নজর।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement