
Hill BJP Candidate: বছর দু’য়েক আগে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছিলেন, আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে আসছে, এবার সবাইকে মূলস্রোতে অর্থাৎ বিজেপিতে মিশতে হবে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের প্রার্থী তালিকায় সেই বার্তারই যেন প্রতিফলন ঘটাল গেরুয়া শিবির। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং, তিনটি আসনেই এবার নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী ঘোষণা করে আঞ্চলিক দলগুলির অস্তিত্বকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানাল বিজেপি। আর এই সিদ্ধান্তের পরই পাহাড়জুড়ে শুরু হয়েছে জোট-সঙ্গীদের বিদ্রোহ আর দলের অন্দরের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব।
বিজেপির এই ‘একলা চলো’ নীতিতে সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে জিএনএলএফ। দার্জিলিংয়ের দু’বারের বিধায়ক তথা সাংসদ রাজু বিস্টের ছায়াসঙ্গী নীরজ জিম্বাকে এবার টিকিট দেয়নি বিজেপি। অথচ নীরজ কয়েকদিন আগেও হ্যাটট্রিকের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। ব্রাত্য হওয়ার পর হতাশ নীরজের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “এখন আমার কিছু বলার নেই, দল বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।” অন্যদিকে, সিপিআরএম-এর মতো পুরনো শরিকরাও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি ছিল পাহাড়ের ভূমিপুত্র ও আঞ্চলিক দলের প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া, যা বিজেপি কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে।
কালিম্পং আসনে হকি তারকা ভরত ছেত্রীকে প্রার্থী করে বিজেপি বড় চমক দিলেও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। কারণ, ভরত কোনওদিন সক্রিয় রাজনীতি বা মিছিলে পা রাখেননি। তবে সবথেকে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে কার্শিয়াংয়ে। সেখানে সোনম লামাকে প্রার্থী করায় খোদ বিজেপিরই একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। সুকনা-পানিঘাটা মণ্ডল সভাপতি অজয় শর্মার সাফ কথা, “এই প্রার্থী আমাদের পছন্দ নয়। মানুষের আবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে ওপর থেকে প্রার্থী চাপানো হয়েছে।” তাঁরা আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে মনোজ দেওয়ানকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দার্জিলিং আসনে এবার পদ্ম প্রতীকে লড়বেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যুব সভাপতি নমন রাই। অর্থাৎ বিমল গুরুংয়ের দলের সঙ্গে একপ্রকার গোপন আঁতাত রাখলেও জিএনএলএফ বা অজয় এডওয়ার্ডের আইজিজেএফ-কে কোনও পাত্তাই দিল না বিজেপি। যদিও সাংসদ রাজু বিস্ট দাবি করেছেন, পাহাড়ের তিনটি আসনেই পদ্ম ফুটবে এবং কোনও ক্ষোভ নেই, কিন্তু বাস্তবের ছবিটা বলছে অন্য কথা। আঞ্চলিক দলগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার যে আশঙ্কা নাড্ডা তৈরি করেছিলেন, তা এবার পাহাড়ের ভোটযুদ্ধে বিজেপির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার।