
Jalpaiguri BJP Internal Conflict: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজার আগেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে পদ্ম-শিবিরের অন্দরে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলতে শুরু করেছে। মালবাজার, আলিপুরদুয়ারের পর এবার ময়নাগুড়িতেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি। শুক্রবার দুপুরে ময়নাগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে জেলা সভাপতি শ্যামল রায়কে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিলেন ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীরাই। বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে পুনরায় প্রার্থী করার প্রতিবাদে চার মণ্ডলের বিজেপি নেতৃত্বের রণংদেহি মেজাজে ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে জেতার পর থেকে এলাকায় বিধায়কের দেখা মেলেনি। দলের কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি হোক বা কর্মীদের বিপদে কাউকেই পাশে পাননি স্থানীয় নেতৃত্ব। ময়নাগুড়ির চারটি মণ্ডল কমিটির সভাপতি ও সক্রিয় কর্মীরা সাফ জানিয়েছেন, কৌশিক রায়কে যেন পুনরায় টিকিট না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে তাঁরা আগেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লিখিতভাবে আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের কৌশিকবাবুর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মীরা।
এদিন দুপুরে জেলা সভাপতি শ্যামল রায় ময়নাগুড়ির কার্যালয়ে পৌঁছলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কর্মীরা তাঁর কাছে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দাবি করেন। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় শুরু হয় তুমুল স্লোগান। এরপরই মেজাজ হারিয়ে জেলা সভাপতিকে অফিসের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদল করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে ময়নাগুড়ির সমস্ত কার্যকর্তা একযোগে কাজ বন্ধ করে দেবেন। এমনকি পাশের ধূপগুড়ি বা মেখলিগঞ্জে গিয়ে ভোটের কাজ করার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা। যদিও জেলা সভাপতি এই নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।