
উত্তরবঙ্গে রেড অ্যালার্ট। ভারী বৃষ্টি চলছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় নেমেছে ধস। পাশাপাশি ব্রিজ ভেঙে তলিয়ে গিয়েছে। আর দুর্যোগের জন্য আলিপুরদুয়ারে হাসিমারা এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আজ এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি এ দিন তিনি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার ঘটনার নেপথ্যে 'কাটমানি' থাকতে পারে বলেও একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মাথায় রাখতে হবে, উত্তরবঙ্গে যে ভারী বৃষ্টি হবে, তার পূর্বাভাস ছিলই। জারি হয়েছিল রেড অ্যালার্ট। আর এমন দুর্যোগের জন্যই একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। অবরুদ্ধ হয়েছে রাস্তা। এমনকী ভেঙে পড়েছে দুধিয়া ব্রিজ। পাশাপাশি দুর্যোগের জন্য আলিপুরদুয়ারে হাসিমারা এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, 'দুর্যোগের আভাস থাকায় সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল প্রশাসন। সরকার যথেষ্ঠ যত্নবান। অভিজ্ঞ আধিকারিকরা সকাল থেকে কাজ করছেন। এমপি, এমএলএ-রা কাজ করছেন। আমাকে রিপোর্ট দিচ্ছে। আমিও পরামর্শ দিচ্ছি।'
কী পরিস্থিতি?
শুভেন্দু জানান, সব জায়গায় খুব বড় ভূমিধস হয়নি। এনএইচ ১০-এর উপর একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। মোটের উপর সব রাস্তাই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দুই এক জায়গায় অবশ্য সমস্যা হয়েছে। বড় ধস নেমেছে। তবে বাকি জায়গায় সব স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিজ নিয়ে কী দাবি?
ভারী বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক নদী। আর তাতেই আবার ভেঙে গিয়েছে দুধিয়া সেতু। এই ব্রিজের ভাঙন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, 'বৃষ্টিতে জল যেভাবে নেমে আসে, তাতে ব্রিজ ভেঙে যেতে পারে, এটা সবাই জানেন। ৭-৮ মাসের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্রিজ কীভাবে ভেসে গেল, কাটমানি ছিল কি না, সেটাই দেখার। এখন রাস্তা তৈরিই অগ্রাধিকার। সেই মতো টাকাও অনুমোদন হয়ে গিয়েছে।'
পাশাপাশি তিনি জানান, এটা একটা টোম্পোরারি ব্রিজ ছিল। স্থায়ী ব্রিজের কাজ চলছিল। তবে কেন টেম্পরারি ব্রিজও এত তাড়াতাড়ি ভেঙে গেল, তা নিয়েও তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি জানান, ধসের জন্য খুব একটা সমস্যা এখনও হয়নি। শুধুমাত্র ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার জন্যই রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদবাকি সব জায়গায় স্বাভাবিক হয়েছে রাস্তা।
পর্যটক কি আটকে রয়েছে?
এই বিষয়টা নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও পর্যটক আটকে থাকার তথ্য নেই। যদি কেউ আটকে থাকে, তাহলেও চিন্তা নেই। জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার একসঙ্গে কাজ করছে। তাঁদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হবে।