
ছাড় পাচ্ছে না নদীর চরের বেআইনি জমিও। তৃণমুল পরিচালিত মালদা পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মহানন্দা নদীর চরে বেআইনি ভাবে জমি বিক্রি করে বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ তৃণমূলের জমির দালালদের বিরুদ্ধে। চরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত এক শ্রেণির জমির দালাল মোটা টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি করে দিয়েছে। কারও কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা,আবার কারও কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই চরে বসবাস করছেন। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে জমি কেনার পর সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে সংসার করছেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি জমি জবরদখল মুক্ত করার ঘোষণা হওয়ায় এখন উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে প্রায় ২৫টি পরিবারের।
চরবাসীদের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁরা জানতে পেরেছেন যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকা থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই নিজেদের জমি কেনার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে মালদা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার এবং এলাকার বিধায়কের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আবেদন, সরকার যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে। যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তাহলে জমি কেনার জন্য যে টাকা তাঁরা দিয়েছেন,তা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে অন্যত্র বাড়িঘর তৈরি করতে পারেন তাঁরা। পাশাপাশি অবিলম্বে চরের জমি বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কেনা জমি যদি সরকারি জমি হয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা তাঁদের কাছ থেকে কারা নিয়েছে এবং সেই টাকা কোথায় গেল তার তদন্ত কি হবে? পাশাপাশি উচ্ছেদ হলে তাঁদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
এ বিষয়ে মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা জানান,বহু গরিব মানুষ ওই চরে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে, তৃণমূল আমলে তৃণমূল আশ্রিত কিছু ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে যারা দোষী,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে চরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, মহানন্দা নদীর চরে কেউ আইনি ভাবে জমি কিনতে পারেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে,প্রশাসন তা তদন্ত করবে। তদন্তে যদি তৃণমূলের কোনও নেতা বা কর্মীর যোগ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। - মিলটন পাল