Advertisement

Malda Youth Bite Snake: মালদায় ছোবল খেয়ে সাপকে পাল্টা কামড় যুবকের, হাতে জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাজির হাসপাতালে

Malda Youth Bite Snake: পায়ে কামড় খাওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তেই কোনো কিছু না ভেবে বিদ্যুৎ গতিতে ফারুক সেই সাপের মাথা চেপে ধরেন। এরপর নিজের রাগ ও ক্ষোভ সামলাতে না পেরে সাপটির মাথায় পাল্টা কামড় বসিয়ে দেন তিনি। সাপের কামড়ের বদলা সাপে কামড়ে নেওয়ার এমন অদ্ভুত নজির সচরাচর দেখা যায় না।

মালদা ছোবল খেয়ে সাপকে পাল্টা কামড় যুবকের, হাতে জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক (ছবি-AI নির্মিত))মালদা ছোবল খেয়ে সাপকে পাল্টা কামড় যুবকের, হাতে জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক (ছবি-AI নির্মিত))
Aajtak Bangla
  • মালদা,
  • 12 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:34 AM IST

Malda Youth Bite Snake: সাপে কামড়ালে মানুষ সাধারণত আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দিকে ছোটেন। তবে মালদা জেলায় এবার এমন এক অভূতপূর্ব এবং অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটল যা শুনে চিকিৎসকদের থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার চোখ চড়কগাছ হয়ে গেছে। সাপের ছোবল খেয়ে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া তো দূর অস্ত উল্টে সেই সাপটিকে হাতেনাতে ধরে কামড়ে দিলেন এক যুবক। এই অদ্ভুত এবং রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত মানুটোলা এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং সমাজ মাধ্যমে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সাপের সঙ্গে এমন অসম লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া ওই যুবকের নাম ফারুক মোমিন এবং তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে ফারুকের বাড়ি দুলালগঞ্জ এলাকায় এবং পেশায় তিনি একজন সাধারণ দিনমজুর। ঘটনার দিন মোথাবাড়ির মানুটোলা এলাকার একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করছিলেন তিনি। রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে হিসেবে কাজ করার সময়েই হঠাৎ করে একটি বিশাল আকৃতির সাপ তার ডান পায়ে সজোরে ছোবল মারে। আচমকা পায়ে সাপের কামড় খেয়েও কিন্তু বিন্দুমাত্র ভয় পাননি ওই সাহসী যুবক।

পায়ে কামড় খাওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তেই কোনো কিছু না ভেবে বিদ্যুৎ গতিতে ফারুক সেই সাপের মাথা চেপে ধরেন। এরপর নিজের রাগ ও ক্ষোভ সামলাতে না পেরে সাপটির মাথায় পাল্টা কামড় বসিয়ে দেন তিনি। সাপের কামড়ের বদলা সাপে কামড়ে নেওয়ার এমন অদ্ভুত নজির সচরাচর দেখা যায় না। এখানেই শেষ নয় এরপর বাম হাত দিয়ে চার ফিটেরও বেশি লম্বা ওই সাপের মাথাটি শক্ত করে চেপে ধরে সেটিকে বাতাসে দোলাতে দোলাতে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফারুক।

হাতে চার ফুটেরও বেশি লম্বা একটি সাপ নিয়ে এক যুবককে রাস্তার ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই পথচলতি মানুষ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফারুক যখন ওই অবস্থায় মোথাবাড়ির বাঙিটোলা হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন তখন তিনি রাস্তা থেকে একটি টোটো ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার হাতে ওই রাক্ষুসে জ্যান্ত সাপ দেখেই ভয়ে কোনো টোটো চালক তাকে যাত্রী হিসেবে নিজেদের গাড়িতে তুলতে রাজি হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে সাপ হাতে কিছুটা পথ অতিক্রম করতে হয়।

Advertisement

অবশেষে ফারুক ওই সাপটিকে সঙ্গে নিয়েই কোনোমতে বাঙিটোলা গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত রোগী এবং নার্সদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর যুবকের শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবার রাতেই তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাপে কাটার উপযুক্ত প্রতিষেধক বা এভিএস দেওয়ার ফলে আপাতত ওই যুবকের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

এদিকে এই রোমহর্ষক ঘটনার খবর চাউর হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবকের সাপ হাতে হেঁটে যাওয়ার ছবি এবং ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা ফারুকের এমন দুঃসাহসিক কাণ্ড দেখে যেমন তাজ্জব বনে গেছেন তেমনই জেলা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মালদার সর্প বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি এবং ভিডিও ভালোভাবে খতিয়ে দেখে দাবি করেছেন যে ওই সাপটি আদতে কোনো বিষধর সাপ ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি একটি নির্বিষ সাপ ছিল তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার বা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

একদিকে মালদার বুকে যখন সাপ এবং মানুষের এমন অদ্ভুত লড়াইয়ের খবর রাজ্য রাজনীতি ও সমাজ মাধ্যমে তোলপাড সৃষ্টি করেছে ঠিক তেমনই উত্তরবঙ্গের অন্য প্রান্তে ময়নাগুড়িতে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বিজেপি কর্মীরা লরি তল্লাশি করে গোরু পাচারের এক অভিনব ও নতুন ফন্দি হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে আপাতত মালদার মোথাবাড়ির ফারুক মোমিন এবং তার সাপের মাথা চিবিয়ে দেওয়ার ঘটনাটিই সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং চিকিৎসকেরা ফারুকের শারীরিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement