Advertisement

মালদায় দুই TMC নেতার পিস্তল হাতে দাদাগিরি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবি

মালদা জেলার রতুয়া থানার এলাকায় সামনে এসেছে দুটি পৃথক ঘটনা। প্রথম ঘটনাটি চাঁদমনি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিকটাহা গ্রামের বাসিন্দা জামশেদ আলিকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে তাঁকে দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ার ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতীকি ছবিপ্রতীকি ছবি
বিশাল দাস
  • রতুয়া, মালদা,
  • 05 Jul 2026,
  • अपडेटेड 5:40 PM IST

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে, কিন্তু অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি। সেই আবহেই প্রকাশ্যে দুই তৃণমূল নেতার অস্ত্র হাতে ছবিকে ঘিরে তোলপার সোশ্যাল মিডিয়া। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিরই প্রতিফলন এই ধরনের ছবি। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলির সত্যতা, সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মালদা জেলার রতুয়া থানার এলাকায় সামনে এসেছে দুটি পৃথক ঘটনা। প্রথম ঘটনাটি চাঁদমনি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিকটাহা গ্রামের বাসিন্দা জামশেদ আলিকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে তাঁকে দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ার ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিটি দ্রুত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।অন্যদিকে, একই থানার এলাকার বাসিন্দা এবং মালদার সামসি কলেজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট সভাপতি শেখ রিয়াজুলের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবিতেও তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি প্রসূন রায় স্বীকার করেছেন, শেখ রেজাউল একসময় সামসি কলেজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি ছিলেন। তবে বর্তমানে সমস্ত ইউনিট ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজেও আর সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই বলে জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছবিগুলি কবে তোলা হয়েছে, সেগুলি প্রকৃত কি না এবং কোনও ধরনের আইনভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য সংগ্রহের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর অভিযোগ- দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল রাজ্যে জঙ্গলরাজের পরিবেশ তৈরি করেছিল এবং সেই মানসিকতারই প্রতিফলন এখনও বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, যারা এখনও আগের রাজনৈতিক প্রভাবের ভরসায় চলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে জেলার  তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতিপ্রসূন রায় বলেন- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি তিনিও দেখেছেন। আইন অনুযায়ী তদন্ত করে পুলিশই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অভিযুক্তদের সঙ্গে সংগঠনের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। ফলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসুক এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলুক—এই অবস্থানেই রয়েছে তৃণমূল।

Advertisement

রিপোর্টার- মিলটন পাল
 

Read more!
Advertisement
Advertisement