
Mamata Banerjee TMC Election Campaign: ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গেল খাস কলকাতায়। তবে এবার চেনা ছকে কোনো মেগা র্যালি বা চোখধাঁধানো রোড-শো নয়, বরং নিজের খাসতালুক ভবানীপুর থেকেই অত্যন্ত সতর্কভাবে নির্বাচনী প্রচারের সলতে পাকানো শুরু করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের অহিন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমেই কার্যত রণকৌশল স্থির করলেন তিনি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার সাতজন কাউন্সিলর এবং বুথ স্তরের কর্মীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ আসলে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়ার ইঙ্গিত।
ভবানীপুর এবার স্রেফ একটি কেন্দ্র নয়, বরং এক মর্যাদার লড়াই। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে টেক্কা দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীকে। দু’দিন আগেই তিনি এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। ফলে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে ভোটার তালিকার কাটা-ছেঁড়া নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছে শাসক দল।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে এবং ১৪ হাজার ভোটারের নাম নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২১-এর উপনির্বাচনে মমতা যেখানে ৫৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন, তার আগে সাধারণ নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৮ হাজারের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া সমীকরণকে কঠিন করে তুলতে পারে, তা ভালোই বুঝছেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিনের বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, বুথ স্তরের কর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন নেত্রী। এরপরই শুরু হবে তাঁর ঝোড়ো সফর। আগামী ২৪ মার্চ উত্তরবঙ্গে পাড়ি দেবেন মমতা, সেখানে রয়েছে একগুচ্ছ সভা। অন্যদিকে, একই দিন থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুরোদমে প্রচারে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল যখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন পাল্টা ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি-ও। আগামী ২৪ মার্চ কলকাতায় পা রাখছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক নীতিন নবীন। মূলত গ্রাউন্ড লেভেলে কাজের তদারকি এবং নির্বাচনী ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করতেই তাঁর এই সফর। সব মিলিয়ে চৈত্র মাসের তপ্ত রোদের আগেই বাংলার রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে।