
Mamata Banerjee House Arrest: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক দ্বাদশ বর্ষীয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা রবিবার কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করেছে, আর এই চরম উত্তেজনার আবহেই এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তরজা শুরু হয়ে গেল রাজ্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাঁকে পরোক্ষে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে, ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাঁর বাড়ির সামনে মোড়ের মাথা থেকে শুরু করে চারপাশের সমস্ত রাস্তায় হঠাৎ এত বিপুল পুলিশের কেন রুটমার্চ হচ্ছে?
তিনি জানান , মানুষের সহ্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে এবং তিনি দাঙ্গা হাঙ্গামা পছন্দ না করে সম্পূর্ণ একা ওই শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে প্রায় এক হাজার পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করে মুখে কিছু না বলে একপ্রকার হাউজ অ্যারেস্ট বা নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে, এদিকে তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেছেন যে শেষ পর্যন্ত মোবাইলেই বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মমতাও একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে, তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে।
শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর, নিহতের পরিবারের দাবি ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই ছাত্রী শনিবার বিকেলে এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরনোর পর থেকেই নিখোঁজ ছিল, এরপর নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। সেখানে ওই নাবালিকার সঙ্গে এলাকারই কয়েকজন যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা এক যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে মেলে এক ভয়ঙ্কর তথ্য, ওই যুবকের সূত্র ধরেই রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বারুইপুরের বাসিন্দাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ে রাস্তায়, মৃতদেহ মাঝরাস্তায় ফেলে, গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে চলে দীর্ঘক্ষণ ধরে তীব্র বিক্ষোভ, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় পুলিশকেও।
জনতার এই গণবিক্ষোভের মাঝে খুনে অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা, গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিআইটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাবালিকাকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেফতারও করেছে। বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যেমন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ব্যাপক পুলিশি প্রহরা ও তাঁকে নজরবন্দি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।